পিএইচডি ছাড়াই বিএআরসিতে বিজ্ঞানী পদবি, দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় গবেষণাগত যোগ্যতা ছাড়াই বিজ্ঞানী পদবি ব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। স্বীকৃত কোনো জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ কিংবা পিএইচডি ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা। এ নিয়ে বিএআরসির ভেতরে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন বিএআরসির সদস্য পরিচালক (মৎস্য বিভাগ) ও অর্থ এবং বাজেট ইউনিটের দায়িত্বে থাকা অজিত কুমার চক্রবর্তী এবং পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন বিভাগের রুটিন দায়িত্বে থাকা আব্দুল মুত্তাকিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দুজনই ঢাকা কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মপরিধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিএআরসির একাধিক সূত্র জানায়, বিগত সরকারের আমল থেকেই এই দুই কর্মকর্তা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। কৃষি ও মৎস্য গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে তাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাবে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব থেকে সরাতেও হিমশিম খাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, দুই কর্মকর্তার প্রশাসনিক অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সচিবদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ জমা পড়ার পরও তাদের পদোন্নতি ও নতুন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বিএআরসির সাধারণ কর্মকর্তা ও গবেষকদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব ও গবেষণার মান বজায় রাখতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা নিয়োগের পাশাপাশি কথিত সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

















