Dhaka ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটের বিকল্প খুঁজছে সরকার, বড় ভরসা সৌরবিদ্যুৎ

বিশেষ প্রতিবেদক
10 / 100 SEO Score

গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট যুক্ত করার লক্ষ্য; ২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের পরিকল্পনা

জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়তি ব্যয়ের চাপে বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উৎপাদন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ খাতের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের সংস্থান করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য, অর্থায়নের অভাবে কোনো উদ্যোক্তার সম্ভাবনাময় প্রকল্প যেন থেমে না যায়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎকে সরকার এখন শুধু বিকল্প জ্বালানি হিসেবে নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুতের মতো দেশীয় ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানোকে সময়ের দাবি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করার কারণে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে। বর্তমান সরকার অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময় ব্যয় না করে আগামী দিনের বিদ্যুতের চাহিদা কীভাবে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভর্তুকির চাপ কমাতে বিকল্প জ্বালানিতে গুরুত্ব: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও প্রায় সমপরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজন রয়েছে। জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে এই আর্থিক চাপ সামাল দিতে হচ্ছে সরকারকে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এরই মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় ও ঝুঁকি দুটিই বাড়বে। এ কারণে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণকে একই পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একযোগে কাজ করছে।

অব্যবহৃত ছাদ হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র: সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন ও বাসাবাড়ির ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এ উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নিজস্ব ব্যবহারের পর যারা বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সরকার তাদের কাছ থেকে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর পর বাড়তি বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ পাবেন। ফলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর একটি বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কর ও শুল্ক সুবিধা, নীতিসহায়তা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের আমদানি এবং দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতেও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

নিজের বাসায় সৌরপ্যানেল স্থাপনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আহ্বান জানানোর আগে নিজেও বাসায় সৌরপ্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখানে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতেও সক্ষম হয়েছেন।

কৃষি ও শিল্পে সৌরবিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা: সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুধু আবাসিক ভবন কিংবা শিল্পকারখানায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। কৃষি খাতেও এর বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত সেচপাম্প চালু করা গেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সংরক্ষিত হবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে হিমাগার পরিচালনা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে শুধু সৌরপ্যানেল স্থাপন করলেই হবে না, প্রয়োজন হবে নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুক্ত ৮ হাজারের বেশি নতুন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রাহকদের সেবা, স্থাপিত ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার: সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার। এ খাতে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সোলার এক্সপো শুধু দুই দিনের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এখান থেকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বাস্তব উদ্যোগ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ৩০০ মেধাবী তরুণ-তরুণী নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছেন। একটি উদ্ভাবনী ধারণাই বাংলাদেশের জন্য বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। এ কারণে চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, জ্ঞানের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণার প্রতিযোগিতা চলতে হবে। অর্থের অভাবে তরুণদের কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ যেন হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সহজ হবে না। এজন্য দ্রুত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আবহাওয়াজনিত সীমাবদ্ধতা ও উৎপাদনের সময়ভিত্তিক তারতম্য মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্বও। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে সরকার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। আমদানিনির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায় এবং সৌরবিদ্যুৎ কতটা কার্যকরভাবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিকল্প ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

eleven − 10 =

About Author Information

জ্বালানি সংকটের বিকল্প খুঁজছে সরকার, বড় ভরসা সৌরবিদ্যুৎ

Update Time : ০৬:১৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট যুক্ত করার লক্ষ্য; ২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের পরিকল্পনা

জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়তি ব্যয়ের চাপে বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধানে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উৎপাদন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ খাতের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থের সংস্থান করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য, অর্থায়নের অভাবে কোনো উদ্যোক্তার সম্ভাবনাময় প্রকল্প যেন থেমে না যায়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সৌরবিদ্যুৎকে সরকার এখন শুধু বিকল্প জ্বালানি হিসেবে নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি আমদানির ব্যয় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুতের মতো দেশীয় ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানোকে সময়ের দাবি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করার কারণে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানি প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে। বর্তমান সরকার অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময় ব্যয় না করে আগামী দিনের বিদ্যুতের চাহিদা কীভাবে পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভর্তুকির চাপ কমাতে বিকল্প জ্বালানিতে গুরুত্ব: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও প্রায় সমপরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজন রয়েছে। জ্বালানি আমদানির ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে এই আর্থিক চাপ সামাল দিতে হচ্ছে সরকারকে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করা এবং বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এরই মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় ও ঝুঁকি দুটিই বাড়বে। এ কারণে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণকে একই পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি সম্পর্কে সরকার সচেতন। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একযোগে কাজ করছে।

অব্যবহৃত ছাদ হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র: সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক ভবন ও বাসাবাড়ির ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এ উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কেনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নিজস্ব ব্যবহারের পর যারা বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে সরকার তাদের কাছ থেকে প্রণোদনাসহ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রয়োজন মেটানোর পর বাড়তি বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ পাবেন। ফলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে প্রাথমিক বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর একটি বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কর ও শুল্ক সুবিধা, নীতিসহায়তা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সৌরপ্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের আমদানি এবং দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতেও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

নিজের বাসায় সৌরপ্যানেল স্থাপনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আহ্বান জানানোর আগে নিজেও বাসায় সৌরপ্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখানে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতেও সক্ষম হয়েছেন।

কৃষি ও শিল্পে সৌরবিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা: সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুধু আবাসিক ভবন কিংবা শিল্পকারখানায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। কৃষি খাতেও এর বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে সৌরচালিত সেচপাম্প চালু করা গেলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সংরক্ষিত হবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে হিমাগার পরিচালনা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে শুধু সৌরপ্যানেল স্থাপন করলেই হবে না, প্রয়োজন হবে নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ খাতে যুক্ত ৮ হাজারের বেশি নতুন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গ্রাহকদের সেবা, স্থাপিত ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার: সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি ও উন্নয়ন সহযোগীদেরও সম্পৃক্ত করতে চায় সরকার। এ খাতে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সোলার এক্সপো শুধু দুই দিনের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এখান থেকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ এবং তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বাস্তব উদ্যোগ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ৩০০ মেধাবী তরুণ-তরুণী নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছেন। একটি উদ্ভাবনী ধারণাই বাংলাদেশের জন্য বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। এ কারণে চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, জ্ঞানের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণার প্রতিযোগিতা চলতে হবে। অর্থের অভাবে তরুণদের কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ যেন হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সহজ হবে না। এজন্য দ্রুত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে আবহাওয়াজনিত সীমাবদ্ধতা ও উৎপাদনের সময়ভিত্তিক তারতম্য মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্বও। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎকে কেন্দ্র করে সরকার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। আমদানিনির্ভরতা কমানো, উৎপাদন ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়া এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায় এবং সৌরবিদ্যুৎ কতটা কার্যকরভাবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিকল্প ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।