Dhaka ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটার বাইরেও যাওয়া যাবে ইতালি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
10 / 100 SEO Score

দালালের মাধ্যমে নয়, প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করলে দেশটির প্রচলিত অভিবাসন কোটা বা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র বাইরেও কাজের উদ্দেশ্যে ইতালিতে প্রবেশ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীকে কোনও খরচ বহন করতে হবে না। বছরের যেকোনও সময় আবেদন করা যাবে, এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও ‘ক্লিক ডে’ নেই।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইতালিতে বর্তমানে ২ লাখ ১৭ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে ৮০ হাজারের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে।

সেমিনারে ইতালির সরকারি কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবস্থা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি। তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। এসব কর্মী বিভিন্ন দেশের মধ্যে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী নেওয়া হবে। অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নিতে সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের জন্যও সংরক্ষিত কোটা রয়েছে।

তবে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে ইতালির অভিবাসন আইনের ‘আর্টিকেল ২৩’। এই ধারার আওতায় ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ও সনদপ্রাপ্ত প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং প্রজেক্ট সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা ডেকরেতো ফ্লাসির কোটা ছাড়াই বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই প্রশিক্ষণে তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক। এগুলো হলো প্রাথমিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালি সম্পর্কে মৌলিক নাগরিক শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের খাতের পেশাগত দক্ষতা অর্জন। প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে থেকেই সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য কর্মীকে কোনও অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

অনুষ্ঠানে ফরম্যাটের প্রতিনিধি আন্তোনিও মিলো আর্টিকেল ২৩-এর পাঁচটি সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় কোটা ছাড়াই ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে, শুরু থেকেই ইতালি সরকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা ইতালীয় ভাষা ও কাজ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ইতালিতে যেতে পারবেন। আর যারা শেষ পর্যন্ত ইতালি যাবেন না, তারাও অর্জিত দক্ষতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারবেন।

দূতাবাস জানায়, এ-সংক্রান্ত গাইডলাইন গৃহীত হয়েছে ২০২৩ সালের ৭ জুলাই।

ভিসা ও দালালের খরচ নিয়ে সতর্কতা
সেমিনারে ইতালি যাওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, ইতালির ভিসার সরকারি ফি ৫০ থেকে ১১৬ ইউরো। এর সঙ্গে ভিএফএস ফি ৩৮ ইউরো যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫৪ ইউরো খরচ হয়। অথচ একই ভিসার জন্য দালালরা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নিচ্ছে। এর বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকরা বলেন, বৈধ পথে ইতালি যেতে খরচ তুলনামূলক কম। প্রতারণার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে দালালদের পেছনে অর্থ ব্যয়ই বড় কারণ। আর্টিকেল ২৩-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কোনও খরচ নেই। এ কারণে দালালের পরিবর্তে ইতালি দূতাবাস ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বৈধ তথ্য অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিকে ইতালি পৌঁছানোর আট দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির পুলিশ সদর দফতর কুয়েশচুরায় গিয়ে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের পারমিট দেওয়া হবে, যা নবায়নযোগ্য। পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর স্থায়ী বা অনির্দিষ্ট মেয়াদের পারমিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ইতালি যাওয়ার সময় কর্মীদের হাতে প্রবাসী কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। স্কিল মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে বোয়েসেলসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠছেন। এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতিকে একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। কারিকুলামটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যতটা সম্ভব চালুর চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইতালি দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলি। সূচনা বক্তব্য দেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা। তিনি ইউরোপে নিরাপদ, বৈধ ও দক্ষ অভিবাসনের জন্য ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ নিয়ে আলোচনা করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজার জিউসেপ্পে ডি জিওভান্নি। তিনি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ইতালিতে প্রবেশের বিধিমালা ও নতুন আর্টিকেল ২৩-এর বিধান তুলে ধরেন। পরে আর্টিকেল ২৩-এর কয়েকটি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরম্যাটের মাসিমিলিয়ানো ডি ফুসকো, ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের আন্তোনিও মিলো এবং ইউপি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির ম্যানেজার এন্নিও মিলানো।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হেড অব প্রোগ্রাম গুঞ্জন ডালাকোটি এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) চিফ অব মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দর্শক সারিতে ছিলেন আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়া দুটি প্রকল্পের প্রশিক্ষণার্থীরা। এর মধ্যে ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের ‘টিএএসটিই’ প্রকল্পের সম্ভাব্য অভিবাসীরা রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি খাতে ঢাকা রিজেন্সি হোটেলেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অন্যদিকে ইতালির প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফরম্যাটের অধীনে টেক্সটাইল খাতের একদল শিক্ষার্থীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × four =

About Author Information

কোটার বাইরেও যাওয়া যাবে ইতালি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সুযোগ

Update Time : ০১:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

দালালের মাধ্যমে নয়, প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করলে দেশটির প্রচলিত অভিবাসন কোটা বা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র বাইরেও কাজের উদ্দেশ্যে ইতালিতে প্রবেশ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীকে কোনও খরচ বহন করতে হবে না। বছরের যেকোনও সময় আবেদন করা যাবে, এর জন্য নির্দিষ্ট কোনও ‘ক্লিক ডে’ নেই।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত ‘ইতালিতে দক্ষ অভিবাসনের জন্য ভাষা, নাগরিক এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইতালিতে বর্তমানে ২ লাখ ১৭ হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে ৮০ হাজারের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে।

সেমিনারে ইতালির সরকারি কর্মী নিয়োগের কোটা ব্যবস্থা ‘ডেকরেতো ফ্লাসি’র পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেবে ইতালি। তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। এসব কর্মী বিভিন্ন দেশের মধ্যে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী নেওয়া হবে। অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত নিতে সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের জন্যও সংরক্ষিত কোটা রয়েছে।

তবে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে ইতালির অভিবাসন আইনের ‘আর্টিকেল ২৩’। এই ধারার আওতায় ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ও সনদপ্রাপ্ত প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং প্রজেক্ট সম্পন্ন করা ব্যক্তিরা ডেকরেতো ফ্লাসির কোটা ছাড়াই বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এই প্রশিক্ষণে তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলক। এগুলো হলো প্রাথমিক ইতালীয় ভাষা শিক্ষা, ইতালি সম্পর্কে মৌলিক নাগরিক শিক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের খাতের পেশাগত দক্ষতা অর্জন। প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে থেকেই সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য কর্মীকে কোনও অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

অনুষ্ঠানে ফরম্যাটের প্রতিনিধি আন্তোনিও মিলো আর্টিকেল ২৩-এর পাঁচটি সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় কোটা ছাড়াই ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণ বিনামূল্যে, শুরু থেকেই ইতালি সরকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মীরা ইতালীয় ভাষা ও কাজ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে ইতালিতে যেতে পারবেন। আর যারা শেষ পর্যন্ত ইতালি যাবেন না, তারাও অর্জিত দক্ষতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারবেন।

দূতাবাস জানায়, এ-সংক্রান্ত গাইডলাইন গৃহীত হয়েছে ২০২৩ সালের ৭ জুলাই।

ভিসা ও দালালের খরচ নিয়ে সতর্কতা
সেমিনারে ইতালি যাওয়ার নামে প্রতারণার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, ইতালির ভিসার সরকারি ফি ৫০ থেকে ১১৬ ইউরো। এর সঙ্গে ভিএফএস ফি ৩৮ ইউরো যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫৪ ইউরো খরচ হয়। অথচ একই ভিসার জন্য দালালরা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নিচ্ছে। এর বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকরা বলেন, বৈধ পথে ইতালি যেতে খরচ তুলনামূলক কম। প্রতারণার শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে দালালদের পেছনে অর্থ ব্যয়ই বড় কারণ। আর্টিকেল ২৩-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কোনও খরচ নেই। এ কারণে দালালের পরিবর্তে ইতালি দূতাবাস ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বৈধ তথ্য অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিকে ইতালি পৌঁছানোর আট দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির পুলিশ সদর দফতর কুয়েশচুরায় গিয়ে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের পারমিট দেওয়া হবে, যা নবায়নযোগ্য। পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের পর স্থায়ী বা অনির্দিষ্ট মেয়াদের পারমিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ইতালি যাওয়ার সময় কর্মীদের হাতে প্রবাসী কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে। স্কিল মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে বোয়েসেলসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠছেন। এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতিকে একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। কারিকুলামটি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যতটা সম্ভব চালুর চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইতালি দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলি। সূচনা বক্তব্য দেন ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা। তিনি ইউরোপে নিরাপদ, বৈধ ও দক্ষ অভিবাসনের জন্য ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ নিয়ে আলোচনা করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতালি দূতাবাসের মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজার জিউসেপ্পে ডি জিওভান্নি। তিনি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ইতালিতে প্রবেশের বিধিমালা ও নতুন আর্টিকেল ২৩-এর বিধান তুলে ধরেন। পরে আর্টিকেল ২৩-এর কয়েকটি প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরম্যাটের মাসিমিলিয়ানো ডি ফুসকো, ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের আন্তোনিও মিলো এবং ইউপি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির ম্যানেজার এন্নিও মিলানো।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) হেড অব প্রোগ্রাম গুঞ্জন ডালাকোটি এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) চিফ অব মিশন ড. লরা নিকোল টম-বন্ডে।

অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দর্শক সারিতে ছিলেন আর্টিকেল ২৩-এর আওতায় প্রশিক্ষণ নেওয়া দুটি প্রকল্পের প্রশিক্ষণার্থীরা। এর মধ্যে ফ্রন্টিয়ার স্কিলসের ‘টিএএসটিই’ প্রকল্পের সম্ভাব্য অভিবাসীরা রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি খাতে ঢাকা রিজেন্সি হোটেলেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অন্যদিকে ইতালির প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফরম্যাটের অধীনে টেক্সটাইল খাতের একদল শিক্ষার্থীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।