Dhaka ০৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি হামলায় নিহত যোদ্ধাদের গণদাফন করল হিজবুল্লাহ

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
9 / 100 SEO Score

 

ইসরায়েলের হামলায় নিহত যোদ্ধাদের গণদাফন করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল সেলম গ্রামে অনুষ্ঠিত এই দাফন অনুষ্ঠানে শত শত মানুষ অংশ নেন। যুদ্ধবিরতির মধ্যে একাধিক ধাপে নিহত যোদ্ধাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।

ইরান-সমর্থিত লেবাননের এই শিয়া গোষ্ঠী গত ২ মার্চ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ঠিক কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করে নাই হিজবুল্লাহ।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর চলমান লড়াইয়ে সাময়িক বিরতি চলার মাঝে কয়েক দফায় দাফন প্রক্রিয়ার আয়োজন করেছে হিজবুল্লাহ।

ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ওই গ্রামে হিজবুল্লাহ মোট ৪৪ জনকে দাফন করেছে। এর মধ্যে ৩৯ জনই ছিলেন হিজবুল্লাহর যোদ্ধা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক। ইসরায়েলি অভিযানে তারা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের এই গোষ্ঠীটি। তারা বলছে, অপরজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সংবাদদাতা বলেছেন, কফিন বহনকারী ট্রাকগুলো কবরস্থানের দিকে যাওয়ার সময় কান্নারত নারীদের হাতে নিহত যোদ্ধা ও ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হন।

যুদ্ধ যখন তীব্র আকার ধারণ করেছিল, তখন লেবাননের অনেক বাসিন্দা তাদের নিজ নিজ শহরে প্রিয়জনদের দাফন করতে পারেননি। শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় রীতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে কিংবা মৃত ব্যক্তিকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী স্থানে দাফন করা সম্ভব না হলে সাময়িক দাফনের বিধান বা সুযোগ রয়েছে।

সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহতদের নাম উল্লেখ করে হিজবুল্লাহ বলেছে, মাজদাল সেলমের শহীদদের বরকতময় জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

এর আগে, ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া অপর এক বিবৃতিতে ১২৯ জনের নামের তালিকা দেখা যায়। তবে মাজদাল সেলম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিহতদের সেই সংখ্যাকে ‌‌‘‘ভুল ও ভিত্তিহীন’’ বলে নাকচ করে দেয়।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তার এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের মাঝে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে শেষ হওয়া ইসরায়েল-লেবাননের আলোচনার পর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।

স্থায়ী শান্তি চুক্তি এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন এই সরাসরি আলোচনা শুরু করে। গত ২৬ জুন ওয়াশিংটনে একটি রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছায় উভয়পক্ষ। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার শুরু করবে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে মোতায়েন হবে। প্রাথমিকভাবে দুটি পরীক্ষামূলক এলাকা দিয়ে এই চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রধান শর্ত হিসেবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রকরণের কথা বলা হয়েছে। যদিও হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এই চুক্তি এবং আলোচনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইসরায়েলি হামলায় নিহত যোদ্ধাদের গণদাফন করল হিজবুল্লাহ

Update Time : ০৪:৩০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
9 / 100 SEO Score

 

ইসরায়েলের হামলায় নিহত যোদ্ধাদের গণদাফন করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল সেলম গ্রামে অনুষ্ঠিত এই দাফন অনুষ্ঠানে শত শত মানুষ অংশ নেন। যুদ্ধবিরতির মধ্যে একাধিক ধাপে নিহত যোদ্ধাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।

ইরান-সমর্থিত লেবাননের এই শিয়া গোষ্ঠী গত ২ মার্চ ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে ঠিক কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করে নাই হিজবুল্লাহ।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর চলমান লড়াইয়ে সাময়িক বিরতি চলার মাঝে কয়েক দফায় দাফন প্রক্রিয়ার আয়োজন করেছে হিজবুল্লাহ।

ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ওই গ্রামে হিজবুল্লাহ মোট ৪৪ জনকে দাফন করেছে। এর মধ্যে ৩৯ জনই ছিলেন হিজবুল্লাহর যোদ্ধা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক। ইসরায়েলি অভিযানে তারা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের এই গোষ্ঠীটি। তারা বলছে, অপরজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির একজন সংবাদদাতা বলেছেন, কফিন বহনকারী ট্রাকগুলো কবরস্থানের দিকে যাওয়ার সময় কান্নারত নারীদের হাতে নিহত যোদ্ধা ও ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হন।

যুদ্ধ যখন তীব্র আকার ধারণ করেছিল, তখন লেবাননের অনেক বাসিন্দা তাদের নিজ নিজ শহরে প্রিয়জনদের দাফন করতে পারেননি। শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় রীতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে কিংবা মৃত ব্যক্তিকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী স্থানে দাফন করা সম্ভব না হলে সাময়িক দাফনের বিধান বা সুযোগ রয়েছে।

সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহতদের নাম উল্লেখ করে হিজবুল্লাহ বলেছে, মাজদাল সেলমের শহীদদের বরকতময় জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য আপনাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

এর আগে, ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া অপর এক বিবৃতিতে ১২৯ জনের নামের তালিকা দেখা যায়। তবে মাজদাল সেলম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিহতদের সেই সংখ্যাকে ‌‌‘‘ভুল ও ভিত্তিহীন’’ বলে নাকচ করে দেয়।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তার এই যুক্তরাষ্ট্র সফরের মাঝে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে শেষ হওয়া ইসরায়েল-লেবাননের আলোচনার পর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।

স্থায়ী শান্তি চুক্তি এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন এই সরাসরি আলোচনা শুরু করে। গত ২৬ জুন ওয়াশিংটনে একটি রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছায় উভয়পক্ষ। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার শুরু করবে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে মোতায়েন হবে। প্রাথমিকভাবে দুটি পরীক্ষামূলক এলাকা দিয়ে এই চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রধান শর্ত হিসেবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রকরণের কথা বলা হয়েছে। যদিও হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এই চুক্তি এবং আলোচনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।