Dhaka ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্টোবরে ২৪০ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার, ধর্ষণের শিকার ৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

চলতি বছর অক্টোবর মাসে ২৪০ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। একই সময় ধর্ষণের শিকার হন ৫১ জন নারী ও কন্যাশিশু। গত রবিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত অক্টোবর মাসের নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে দেখা যায়—চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ধর্ষণ, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, যৌন নিপীড়ন, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৪০ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৫১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তিন জনকে। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে ৪২ জন নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আরো ২৮ জন নারী ও কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ধর্ষণের শিকার ৫১ জনের মধ্যে ৩৪ জন কন্যাশিশু এবং ১৭ জন নারী। তাদের মধ্যে ছয় জন কন্যাশিশুসহ ১৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দুই কন্যাশিশুসহ তিন জনকে। এ ছাড়া ১৭ জন কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

একই সময়ে বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয়েছে ৪২ জন নারী ও শিশুকে। তাদের মধ্যে সাত জন কন্যাশিশু এবং ৩৫ জন নারী। এ ছাড়া পাঁচ কন্যাশিশুসহ ২৮ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন। তাদের মধ্যে ছয় জন কন্যাশিশু ও ১৭ জন নারী। আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছে দুই কন্যাশিশুসহ সাত জন।

প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক উল্লেখ করা হয়।এসময় ১৫ জন কন্যাশিশুসহ ২১ জন নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সাত জন কন্যাশিশুসহ ৯জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে সাত জন কন্যাশিশুসহ ৯জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন। সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন এক জন কন্যাশিশুসহ তিন জন। এ ছাড়া অ্যাসিডদগ্ধ হয়েছেন একজন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তিন কন্যাশিশুসহ চার জন।

যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাত জন নারী। তাদের মধ্যে ছয় জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই জন। এ ছাড়া দুই কন্যাশিশুসহ আট জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অক্টোবর মাসে ছয় জন কন্যাশিশু অপহরণের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জন কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছে এক জন কন্যাশিশুসহ দুই জন।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 × 1 =

About Author Information

অক্টোবরে ২৪০ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার, ধর্ষণের শিকার ৫১

Update Time : ০৩:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

চলতি বছর অক্টোবর মাসে ২৪০ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। একই সময় ধর্ষণের শিকার হন ৫১ জন নারী ও কন্যাশিশু। গত রবিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত অক্টোবর মাসের নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে দেখা যায়—চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ধর্ষণ, হত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু, আত্মহত্যা, যৌন নিপীড়ন, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৪০ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে ৫১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তিন জনকে। একই সময়ে বিভিন্ন কারণে ৪২ জন নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আরো ২৮ জন নারী ও কন্যাশিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ধর্ষণের শিকার ৫১ জনের মধ্যে ৩৪ জন কন্যাশিশু এবং ১৭ জন নারী। তাদের মধ্যে ছয় জন কন্যাশিশুসহ ১৬ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দুই কন্যাশিশুসহ তিন জনকে। এ ছাড়া ১৭ জন কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

একই সময়ে বিভিন্ন কারণে হত্যা করা হয়েছে ৪২ জন নারী ও শিশুকে। তাদের মধ্যে সাত জন কন্যাশিশু এবং ৩৫ জন নারী। এ ছাড়া পাঁচ কন্যাশিশুসহ ২৮ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আত্মহত্যা করেছেন ২৩ জন। তাদের মধ্যে ছয় জন কন্যাশিশু ও ১৭ জন নারী। আত্মহত্যায় প্ররোচনার শিকার হয়েছে দুই কন্যাশিশুসহ সাত জন।

প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক উল্লেখ করা হয়।এসময় ১৫ জন কন্যাশিশুসহ ২১ জন নারী ও শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে সাত জন কন্যাশিশুসহ ৯জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে সাত জন কন্যাশিশুসহ ৯জন উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন। সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন এক জন কন্যাশিশুসহ তিন জন। এ ছাড়া অ্যাসিডদগ্ধ হয়েছেন একজন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন তিন কন্যাশিশুসহ চার জন।

যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাত জন নারী। তাদের মধ্যে ছয় জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দুই জন। এ ছাড়া দুই কন্যাশিশুসহ আট জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অক্টোবর মাসে ছয় জন কন্যাশিশু অপহরণের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জন কন্যাশিশুসহ ২১ জনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছে এক জন কন্যাশিশুসহ দুই জন।