Dhaka ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ২৪ দফা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবস্থান, সেনাসদস্য ও সামরিক যান লক্ষ্য করে একদিনে অন্তত ২৪টি হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। এতে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সোমবার (১১ মে) হিজবুল্লাহ দাবি করে, এই আক্রমণগুলো ইসরায়েলি সেনাসমাবেশ, মেরকাভা ট্যাংক, ডি-নাইন বুলডোজার, সামরিক সরঞ্জাম এবং খিয়াম, দেইর সেরিয়ান, তায়র হারফা, বায়দাদ, রাশাফ ও নাকোরার মতো সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন স্থাপিত কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। মূলত ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে গোষ্ঠীটি উল্লেখ করেছে।

এই সামরিক অভিযানগুলোতে হিজবুল্লাহ ড্রোন, রকেট হামলা, কামানের গোলা এবং গাইডেড মিসাইল বা নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তারা বেশ কিছু হামলায় ‘সুনিশ্চিত আঘাত’ হানার দাবি করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, লেবানন থেকে ড্রোনের অনুপ্রবেশের খবরের পর রোববার গভীর রাতে ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে আসা একটি ‘সন্দেহজনক আকাশযান’ ভূপাতিত করেছে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে হিজবুল্লাহ কর্তৃক যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ‘আরেকটি লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এবং পরবর্তীতে এর মেয়াদ মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে প্রতিদিন বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে নিয়মিত গোলাগুলি বিনিময় করছে।

গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৬৯৩ জন। এছাড়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে লেবাননের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় বজায় রেখেছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান বেরিয়ে আসবে। তবে সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডিবি/এল

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর ২৪ দফা হামলা

Update Time : ০৪:৪০:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবস্থান, সেনাসদস্য ও সামরিক যান লক্ষ্য করে একদিনে অন্তত ২৪টি হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। এতে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

সোমবার (১১ মে) হিজবুল্লাহ দাবি করে, এই আক্রমণগুলো ইসরায়েলি সেনাসমাবেশ, মেরকাভা ট্যাংক, ডি-নাইন বুলডোজার, সামরিক সরঞ্জাম এবং খিয়াম, দেইর সেরিয়ান, তায়র হারফা, বায়দাদ, রাশাফ ও নাকোরার মতো সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন স্থাপিত কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। মূলত ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে গোষ্ঠীটি উল্লেখ করেছে।

এই সামরিক অভিযানগুলোতে হিজবুল্লাহ ড্রোন, রকেট হামলা, কামানের গোলা এবং গাইডেড মিসাইল বা নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তারা বেশ কিছু হামলায় ‘সুনিশ্চিত আঘাত’ হানার দাবি করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, লেবানন থেকে ড্রোনের অনুপ্রবেশের খবরের পর রোববার গভীর রাতে ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে আসা একটি ‘সন্দেহজনক আকাশযান’ ভূপাতিত করেছে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে হিজবুল্লাহ কর্তৃক যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ‘আরেকটি লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এবং পরবর্তীতে এর মেয়াদ মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে প্রতিদিন বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে নিয়মিত গোলাগুলি বিনিময় করছে।

গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৬৯৩ জন। এছাড়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে লেবাননের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় বজায় রেখেছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান বেরিয়ে আসবে। তবে সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডিবি/এল