Dhaka ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরই বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
10 / 100 SEO Score

 

***দেশে উচ্চশিক্ষিত ৯ লাখ যুবক বেকার
****চাকরিদাতার চাহিদার সঙ্গে মিলছে না দক্ষতা
***কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে
***প্রতি ১০০ বেকারের ২৮ জনই উচ্চশিক্ষিত

দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে লাখো তরুণের সম্ভাবনা। কারও হাতে উচ্চশিক্ষার সনদ, কারও হাতে কাজ শেখার আগ্রহ; কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সময় অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন। কারণ চাকরির বাজার যে দক্ষতা খুঁজছে, তার সঙ্গে অনেক তরুণের অর্জিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মিল হচ্ছে না। ফলে একদিকে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী না পেয়ে সংকটে পড়ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

আজ বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস। এমন এক সময়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিপুল কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা যায়। জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ হওয়া দেশের জন্য বড় সম্ভাবনা হলেও সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন যুগোপযোগী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বাজারমুখী দক্ষতা উন্নয়ন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটালেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে না। শিক্ষা, দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে না পারলে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আরও বাড়বে।

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে দ্রুত: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে ৯ লাখ ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯৯ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখের বেশি।

সরকারের একটি টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি ১০০ জন বেকারের মধ্যে ২৮ জনই উচ্চশিক্ষিত। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চিত্র শুধু কর্মসংস্থানের সংকট নয়; বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের মধ্যে বিদ্যমান বড় ধরনের ব্যবধানেরও প্রতিফলন।

চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি: বর্তমান সময়ে চাকরির ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের বিস্তারের কারণে নিয়োগদাতারা আগের চেয়ে ভিন্ন ধরনের দক্ষতা খুঁজছেন।

কিন্তু দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম এখনো বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর অনেক তরুণকে নতুন করে প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি অনেক তরুণের কর্মজীবনে প্রবেশের পথে বাধা তৈরি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বাড়লেও মান নিয়ে প্রশ্ন: দেশে গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে দেশে ১৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি সরকারি এবং ১১০টি বেসরকারি।

তবে উচ্চশিক্ষার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। আবার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষণার সুযোগের ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া শুধু ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়লে তা কর্মসংস্থানের সংকট আরও বাড়াতে পারে।

পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের প্রয়োজন: বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রকৌশল, পরিবেশ ও আধুনিক কারিগরি জ্ঞানের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু দেশের উচ্চশিক্ষায় এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত বিষয়নির্ভর শিক্ষার আধিক্য রয়েছে।

বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এমন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, যেসব ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। ফলে পড়াশোনা শেষ করার পর তাদের বড় অংশকে দীর্ঘ সময় চাকরির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনা করে নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

কারিগরি শিক্ষায় বাড়াতে হবে গুরুত্ব: দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কারিগরি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, কিন্তু তাদের বড় অংশ স্বল্প দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে আরও ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দেশের ভেতরেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা দেওয়া এবং কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি: শুধু দক্ষতা উন্নয়ন করলেই হবে না, দক্ষ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানও তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিল্পায়ন বাড়ানো, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি এবং তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া গেলে নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে।

তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ: বাংলাদেশ এখন তরুণ জনগোষ্ঠীর শক্তিকে কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে। এই তরুণদের সঠিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিতে পারলে তারা দেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে এখনই দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই জনসংখ্যার সম্ভাবনা পরিণত হবে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরই বড় চ্যালেঞ্জ

Update Time : ০৬:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

***দেশে উচ্চশিক্ষিত ৯ লাখ যুবক বেকার
****চাকরিদাতার চাহিদার সঙ্গে মিলছে না দক্ষতা
***কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে
***প্রতি ১০০ বেকারের ২৮ জনই উচ্চশিক্ষিত

দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে লাখো তরুণের সম্ভাবনা। কারও হাতে উচ্চশিক্ষার সনদ, কারও হাতে কাজ শেখার আগ্রহ; কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সময় অনেকেই থমকে দাঁড়াচ্ছেন। কারণ চাকরির বাজার যে দক্ষতা খুঁজছে, তার সঙ্গে অনেক তরুণের অর্জিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মিল হচ্ছে না। ফলে একদিকে বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী না পেয়ে সংকটে পড়ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

আজ বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস। এমন এক সময়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে, যখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বিপুল কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা যায়। জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ হওয়া দেশের জন্য বড় সম্ভাবনা হলেও সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন যুগোপযোগী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বাজারমুখী দক্ষতা উন্নয়ন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটালেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে না। শিক্ষা, দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে না পারলে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আরও বাড়বে।

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে দ্রুত: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়ে ৯ লাখ ৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে এ সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯৯ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখের বেশি।

সরকারের একটি টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি ১০০ জন বেকারের মধ্যে ২৮ জনই উচ্চশিক্ষিত। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চিত্র শুধু কর্মসংস্থানের সংকট নয়; বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের মধ্যে বিদ্যমান বড় ধরনের ব্যবধানেরও প্রতিফলন।

চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি: বর্তমান সময়ে চাকরির ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের বিস্তারের কারণে নিয়োগদাতারা আগের চেয়ে ভিন্ন ধরনের দক্ষতা খুঁজছেন।

কিন্তু দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম এখনো বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর অনেক তরুণকে নতুন করে প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি অনেক তরুণের কর্মজীবনে প্রবেশের পথে বাধা তৈরি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় বাড়লেও মান নিয়ে প্রশ্ন: দেশে গত কয়েক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে দেশে ১৬৩টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি সরকারি এবং ১১০টি বেসরকারি।

তবে উচ্চশিক্ষার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। আবার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষণার সুযোগের ঘাটতি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া শুধু ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বাড়লে তা কর্মসংস্থানের সংকট আরও বাড়াতে পারে।

পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের প্রয়োজন: বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, প্রকৌশল, পরিবেশ ও আধুনিক কারিগরি জ্ঞানের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু দেশের উচ্চশিক্ষায় এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত বিষয়নির্ভর শিক্ষার আধিক্য রয়েছে।

বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এমন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, যেসব ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। ফলে পড়াশোনা শেষ করার পর তাদের বড় অংশকে দীর্ঘ সময় চাকরির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনা করে নতুন নতুন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

কারিগরি শিক্ষায় বাড়াতে হবে গুরুত্ব: দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কারিগরি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন, কিন্তু তাদের বড় অংশ স্বল্প দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে আরও ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দেশের ভেতরেও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা দেওয়া এবং কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি: শুধু দক্ষতা উন্নয়ন করলেই হবে না, দক্ষ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানও তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিল্পায়ন বাড়ানো, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি এবং তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া গেলে নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে।

তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ: বাংলাদেশ এখন তরুণ জনগোষ্ঠীর শক্তিকে কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রয়েছে। এই তরুণদের সঠিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দিতে পারলে তারা দেশের অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে এখনই দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই জনসংখ্যার সম্ভাবনা পরিণত হবে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে।