ডিজি আফজালকে নিয়ে অভিযোগের নেপথ্যে রমজান
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নেপথ্যে সাবেক জিআইবিআর ও বর্তমানে বরখাস্ত কর্মকর্তা রমজান আলীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রেল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী থাকাকালে রমজান আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। পাথর সরবরাহের বিল-ভাউচার এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।
অন্যদিকে, ডিজি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রকল্প চুক্তিতে ৪০ শতাংশ ঘুষ গ্রহণের অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য প্রচারিত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বিশেষ করে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা হলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এসব অভিযোগের পক্ষে কী তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
রেলওয়ের এক কর্মকর্তার দাবি, অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে ডিজিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্রের দাবি, গত ৫ এপ্রিল রমজান আলী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ডিজি আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের অবস্থা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ দাখিলের অর্থই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়া নয়।
এদিকে, রমজান আলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ২ কোটি ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ২৮৬ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাঁর একটি ছয়তলা বাড়ি আদালতের নির্দেশে ক্রোক থাকার দাবিও রয়েছে। এসব তথ্যের বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের আদেশ থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, ডিজি আফজালকে ঘিরে অভিযোগ এবং এর নেপথ্যে রমজান আলীর ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, নথিপত্র ও যাচাইযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসা উচিত।




















