Dhaka ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের মণিপুরে দুই সংঘাতে প্রাণ গেল ৫ জনের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে জাতিগত সংঘাত ও সহিংসতা। পৃথক দুটি সংঘাতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার নোনি জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলিতে কুকি সম্প্রদায়ের তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুজনের মরদেহ রোববার ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনি জেলায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের’ মাঝে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

‌‌‘‘এই সপ্তাহের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো তল্লাশি অভিযানে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।’’

কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের শীর্ষ এক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তারা বলেছে, নিজেদের আদি ভূমিতে কুকিদের ওপর সরাসরি ও বিনা উসকানিতে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।

এদিকে, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ চলছে। এর মাঝেই ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ভারতের প্রান্তিক এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে নিজস্ব জাতিগত ভূমির দাবি নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কুকি ও নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর দুই পক্ষের মাঝে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।

কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক এই সংঘাত মণিপুরের বিরাজমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে কুকি সম্প্রদায়।

এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হওয়া ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।

সূত্র: রয়টার্স।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

twenty − 6 =

About Author Information

ভারতের মণিপুরে দুই সংঘাতে প্রাণ গেল ৫ জনের

Update Time : ০৫:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে জাতিগত সংঘাত ও সহিংসতা। পৃথক দুটি সংঘাতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার নোনি জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলিতে কুকি সম্প্রদায়ের তিনজন নিহত হন। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুজনের মরদেহ রোববার ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনি জেলায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের’ মাঝে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

‌‌‘‘এই সপ্তাহের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো তল্লাশি অভিযানে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।’’

কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের শীর্ষ এক সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তারা বলেছে, নিজেদের আদি ভূমিতে কুকিদের ওপর সরাসরি ও বিনা উসকানিতে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।

এদিকে, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ চলছে। এর মাঝেই ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ভারতের প্রান্তিক এই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে নিজস্ব জাতিগত ভূমির দাবি নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কুকি ও নাগা উপজাতিদের মধ্যে বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর দুই পক্ষের মাঝে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।

কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক এই সংঘাত মণিপুরের বিরাজমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে কুকি সম্প্রদায়।

এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হওয়া ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনও বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন।

সূত্র: রয়টার্স।