Dhaka ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা বাবা-মা জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ভোগদখলে রাখতে পারবেন। এ সুযোগ রেখে ১৮৮২ সালের ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’ সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিল পাসের আগে এর বিরোধিতা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বাবা-মায়ের সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষায় বিলটিকে স্বাগত জানানো হয়।

পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছ থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছে সম্পত্তি দান করা হলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রেও দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে।

এ ছাড়া দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলে দাতার ভোগের অধিকার বজায় থাকবে। পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা তৈরি হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন এই বিধান সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে কার্যকর হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীনে হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও সৃষ্টি হবে না।

তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এর আগে তিনি বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি দাবি করে সংসদে পাস না করার আহ্বান জানান।

তার বক্তব্য, এর মাধ্যমে দাতার আজীবন সম্পত্তি ভোগের সুযোগ রাখা হলে ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের বিধানকে পাশ কাটানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, দেশের কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমও প্রস্তাবিত ব্যবস্থাকে ইসলামী আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মত দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এই বিলের বিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করা হবে না—এমন অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

তার মতে, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

19 + six =

About Author Information

সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা

Update Time : ০৩:৩১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা বাবা-মা জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ভোগদখলে রাখতে পারবেন। এ সুযোগ রেখে ১৮৮২ সালের ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’ সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিল পাসের আগে এর বিরোধিতা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বাবা-মায়ের সম্পত্তির অধিকার সুরক্ষায় বিলটিকে স্বাগত জানানো হয়।

পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা কিংবা দাদা-দাদি বা নানা-নানির কাছ থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছে সম্পত্তি দান করা হলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রেও দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে।

এ ছাড়া দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির গ্রহীতার মৃত্যু হলে দাতার ভোগের অধিকার বজায় থাকবে। পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান ছিল না। প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা তৈরি হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন এই বিধান সব ধর্মের মানুষের ক্ষেত্রে সমভাবে কার্যকর হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীনে হেবা কিংবা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও সৃষ্টি হবে না।

তবে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এর আগে তিনি বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি দাবি করে সংসদে পাস না করার আহ্বান জানান।

তার বক্তব্য, এর মাধ্যমে দাতার আজীবন সম্পত্তি ভোগের সুযোগ রাখা হলে ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের বিধানকে পাশ কাটানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তিনি দাবি করেন, দেশের কয়েকজন প্রখ্যাত আলেমও প্রস্তাবিত ব্যবস্থাকে ইসলামী আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মত দিয়েছেন।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এই বিলের বিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করা হবে না—এমন অঙ্গীকার করা হয়েছিল।

তার মতে, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।