Dhaka ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ি পৌঁছে দিল সেনাবাহিনী যশোরের খাবারে ঐতিহ্যের ঘ্রাণ: ছিটেরুটি থেকে শতবর্ষী জলযোগ ত্রিদেশীয় সিরিজে ভরাডুবি: তবুও বাংলাদেশের প্রশংসায় আফগান কোচ কক্সবাজারে সৈকতে ভেসে এলো আরও এক মরদেহ, নিহত বেড়ে ৪ সাজেক সড়কে ফের অবরোধ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি বিজয়ার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ, প্রতিমায় সিঁদুর দিতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু পাকিস্তানে যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১০, আহত ৪৪ বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবনতি, প্রশ্নের মুখে ক্রিকেটারদের নিবেদন সাইবার সিকিউরিটিসহ অন্যান্য আইন সংশোধনের চেষ্টা করছি: তথ্যমন্ত্রী দিনব্যাপী সফরে খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবনতি, প্রশ্নের মুখে ক্রিকেটারদের নিবেদন

স্পোর্টস ডেস্ক
10 / 100 SEO Score

 

“এক সময় বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার আশা করতাম আর এখন জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানকে হারানোর স্বপ্ন দেখতে হয়। আসলেই আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে” বেশ আক্ষেপ নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথাগুলো বলছিলেন এক বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থক।

আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। উদ্দেশ্য আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়া। তবে শুরুতেই যেন ‘রিয়েলিটি চেক’ হয়ে গেল চরমভাবেই।

ট্রাই-নেশন সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হতো না। সেই সঙ্গে সমীকরণের মারপ্যাঁচও ছিল। আগে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নামায় তাদের জিততে হতো ৪১ রানের ব্যবধানে। অথচ এমন ম্যাচে ব্যাটিংয়ে যেই ঝলকটা দরকার ছিল তার ছিঁটেফোটাও দেখা যায়নি।

৭ ওভারের মধ্যে ২৮ রানে বাংলাদেশের টপ-অর্ডারের চার ব্যাটার সাজঘরে ফিরে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ৪১ দশমিক ২ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট। জবাবে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই ম্যাচ বের করে নেয় আফগানিস্তান। ফলাফল, টানা দুই ম্যাচ হেরে বিদায় বাংলাদেশের। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ে কিংবা আফগানিস্তান অন্তত ওয়ানডেতে এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পেলে তেমন বাহবা পাওয়া যায় না। কিন্তু হারলে ট্রল বন্যা অবধারিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একদিনের ক্রিকেটে এই দুই দল বাংলাদেশের বিপক্ষে যেন স্পষ্ট ফেভারিট। গতকালকের ম্যাচসহ সর্বশেষ ৭ ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টি। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ড অস্বস্তির। সর্বশেষ ৭ ম্যাচে জয় কেবল দুটিতে।

একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কিছুটা স্বস্তির ফরম্যাট ছিল ওয়ানডে বা ৫০ ওভারের ম্যাচ। দেশে কিংবা দেশের বাইরে ভালো কিছু জয় আশা দেখাচ্ছিল। যদিও চূড়ান্ত তেমন কোনো সফলতা আসেনি। তবুও ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আশাবাদী করছিল অনেককেই। কিন্তু সেই প্রিয় ফরম্যাটেই যেন নিজেদের ভুলতে বসেছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ ৭ ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টি। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ড অস্বস্তির। সর্বশেষ ৭ ম্যাচে জয় কেবল দুটিতে
বিজ্ঞাপন

দেশের মাটিতে যদিও রেকর্ড কিছুটা ভালো। চলতি বছরেই ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। দেশের বাইরে খেলতে নামলেই যেন কঙ্কালটা বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে ছন্নছাড়া ব্যাটিং প্রায় নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচের কোনোটিতেই দুইশোর গণ্ডি পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেটারদের নিবেদন নিয়েও। বাংলাদেশের খেলা দেখলে যে কেউ ভাবতে পারেন, হয়তো জোর করেই এদের খেলতে পাঠানো হয়েছে। যেন দ্রুত শেষ করতে পারলেই বাঁচে!

বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও ভালো করতে পারছেন না সৌম্য সরকার। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান কিছু ম্যাচে আশা দেখালেও তাকে সঙ্গ দেওয়ার যেন কেউ নেই। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়রা কেউই ভালো করতে পারছেন না। টপঅর্ডার ব্যর্থ হলেই যেন ম্যাচ সেখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, মিডল অর্ডারে ভরসা দেওয়ার মতো কেউ নেই! ব্যাটাররা ধারাবাহিক ব্যর্থ হলে বোলারদের জন্যও কাজটা কঠিন হয়ে যায়। আপনি মাত্র ১৬০ রানের পুঁজি নিয়ে তাদের ওপর আর কতটাই বা ভরসা করতে পারবেন। তবুও যেন এক তাসকিন ছাড়া আর কেউ বল হাতে সেভাবে ইম্পেক্ট ফেলতে পারছেন না! দল কি তাহলে নাহিদ রানার অভাবে ভুগছে? ইনজুরির কারণে বেশ অনেকদিন ধরেই দলে নেই টাইগার এই পেসার।

দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্নটা প্রত্যাশিতভাবে উঠছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েসও। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকা অনুচিত বলে মত দিয়েছেন ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই বাংলাদেশি ব্যাটা, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণভাবে মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সাথে সেরা সম্ভাব্য একাদশ নির্বাচন করা। ক্রিকেট একটি পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।’

ক্রিকেট একটি পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
ইমরুল কায়েস
এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিলেন লিটন দাস। ইনজুরির কারণে সদ্য ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি তিনি। তার পরিবর্তে দায়িত্ব সামলেছেন তাওহিদ হৃদয়। আসলে সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে, এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। জবাবে বলছিলেন, ‘একটা-দুটো ম্যাচ বা এক-দুইটা সিরিজ দিয়ে আমি পুরো দলকে বলতে চাই না যে, দলের কী হলো! আমি বলব দল ভালো অবস্থায় আছে, কিন্তু আমরা ব্যাটিং ইউনিট বাইরে যে কয়টা ম্যাচ খেলেছি, টানা খুব বাজে ব্যাটিং করেছি। যে কারণে পুরো দলই ভুগছে।’

কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার আগেই বেশ উচ্চাকাঙক্ষা দেখা যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটার বা কোচিং স্টাফদের। সেগুলো যে কেবল কথার কথা সেটা একপ্রকার মেনে নিলেন এই ব্যাটার। হৃদয় বলছিলেন, ‘আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে যখন খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজটা যেন আশার বেলুনটা ফুটো করে দিয়েছে বাংলাদেশের। আর এক বছরেরও কম সময় আছে আসন্ন বিশ্বকাপের। তার আগে এশিয়া কাপসহ কিছু অবশ্য হাতে আছে। তবে এর মধ্যে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

2 × five =

About Author Information

বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবনতি, প্রশ্নের মুখে ক্রিকেটারদের নিবেদন

Update Time : ০৮:২৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

“এক সময় বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার আশা করতাম আর এখন জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তানকে হারানোর স্বপ্ন দেখতে হয়। আসলেই আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে” বেশ আক্ষেপ নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথাগুলো বলছিলেন এক বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থক।

আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। উদ্দেশ্য আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়া। তবে শুরুতেই যেন ‘রিয়েলিটি চেক’ হয়ে গেল চরমভাবেই।

ট্রাই-নেশন সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জিতলেই হতো না। সেই সঙ্গে সমীকরণের মারপ্যাঁচও ছিল। আগে বাংলাদেশ ব্যাট করতে নামায় তাদের জিততে হতো ৪১ রানের ব্যবধানে। অথচ এমন ম্যাচে ব্যাটিংয়ে যেই ঝলকটা দরকার ছিল তার ছিঁটেফোটাও দেখা যায়নি।

৭ ওভারের মধ্যে ২৮ রানে বাংলাদেশের টপ-অর্ডারের চার ব্যাটার সাজঘরে ফিরে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ৪১ দশমিক ২ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট। জবাবে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই ম্যাচ বের করে নেয় আফগানিস্তান। ফলাফল, টানা দুই ম্যাচ হেরে বিদায় বাংলাদেশের। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ে কিংবা আফগানিস্তান অন্তত ওয়ানডেতে এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পেলে তেমন বাহবা পাওয়া যায় না। কিন্তু হারলে ট্রল বন্যা অবধারিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একদিনের ক্রিকেটে এই দুই দল বাংলাদেশের বিপক্ষে যেন স্পষ্ট ফেভারিট। গতকালকের ম্যাচসহ সর্বশেষ ৭ ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টি। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ড অস্বস্তির। সর্বশেষ ৭ ম্যাচে জয় কেবল দুটিতে।

একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কিছুটা স্বস্তির ফরম্যাট ছিল ওয়ানডে বা ৫০ ওভারের ম্যাচ। দেশে কিংবা দেশের বাইরে ভালো কিছু জয় আশা দেখাচ্ছিল। যদিও চূড়ান্ত তেমন কোনো সফলতা আসেনি। তবুও ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আশাবাদী করছিল অনেককেই। কিন্তু সেই প্রিয় ফরম্যাটেই যেন নিজেদের ভুলতে বসেছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ ৭ ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় মাত্র ১টি। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ড অস্বস্তির। সর্বশেষ ৭ ম্যাচে জয় কেবল দুটিতে
বিজ্ঞাপন

দেশের মাটিতে যদিও রেকর্ড কিছুটা ভালো। চলতি বছরেই ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। দেশের বাইরে খেলতে নামলেই যেন কঙ্কালটা বেরিয়ে আসছে। বিশেষ করে ছন্নছাড়া ব্যাটিং প্রায় নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচের কোনোটিতেই দুইশোর গণ্ডি পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেটারদের নিবেদন নিয়েও। বাংলাদেশের খেলা দেখলে যে কেউ ভাবতে পারেন, হয়তো জোর করেই এদের খেলতে পাঠানো হয়েছে। যেন দ্রুত শেষ করতে পারলেই বাঁচে!

বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও ভালো করতে পারছেন না সৌম্য সরকার। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান কিছু ম্যাচে আশা দেখালেও তাকে সঙ্গ দেওয়ার যেন কেউ নেই। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়রা কেউই ভালো করতে পারছেন না। টপঅর্ডার ব্যর্থ হলেই যেন ম্যাচ সেখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে, মিডল অর্ডারে ভরসা দেওয়ার মতো কেউ নেই! ব্যাটাররা ধারাবাহিক ব্যর্থ হলে বোলারদের জন্যও কাজটা কঠিন হয়ে যায়। আপনি মাত্র ১৬০ রানের পুঁজি নিয়ে তাদের ওপর আর কতটাই বা ভরসা করতে পারবেন। তবুও যেন এক তাসকিন ছাড়া আর কেউ বল হাতে সেভাবে ইম্পেক্ট ফেলতে পারছেন না! দল কি তাহলে নাহিদ রানার অভাবে ভুগছে? ইনজুরির কারণে বেশ অনেকদিন ধরেই দলে নেই টাইগার এই পেসার।

দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্নটা প্রত্যাশিতভাবে উঠছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েসও। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকা অনুচিত বলে মত দিয়েছেন ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই বাংলাদেশি ব্যাটা, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণভাবে মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সাথে সেরা সম্ভাব্য একাদশ নির্বাচন করা। ক্রিকেট একটি পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।’

ক্রিকেট একটি পুরো জাতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং জাতীয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত বা স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।
ইমরুল কায়েস
এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিলেন লিটন দাস। ইনজুরির কারণে সদ্য ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে পারেননি তিনি। তার পরিবর্তে দায়িত্ব সামলেছেন তাওহিদ হৃদয়। আসলে সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে, এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। জবাবে বলছিলেন, ‘একটা-দুটো ম্যাচ বা এক-দুইটা সিরিজ দিয়ে আমি পুরো দলকে বলতে চাই না যে, দলের কী হলো! আমি বলব দল ভালো অবস্থায় আছে, কিন্তু আমরা ব্যাটিং ইউনিট বাইরে যে কয়টা ম্যাচ খেলেছি, টানা খুব বাজে ব্যাটিং করেছি। যে কারণে পুরো দলই ভুগছে।’

কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার আগেই বেশ উচ্চাকাঙক্ষা দেখা যায় বাংলাদেশের ক্রিকেটার বা কোচিং স্টাফদের। সেগুলো যে কেবল কথার কথা সেটা একপ্রকার মেনে নিলেন এই ব্যাটার। হৃদয় বলছিলেন, ‘আমরা বড় কোনো সিরিজ, ত্রিদেশীয় সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে যখন খেলতে যাই, ব্যক্তিগতভাবে এবং দল হিসেবে সবাই ট্রফি জিততে চাই। কিন্তু আমরা শুধু মুখেই বলি, কাজে সেটার প্রতিফলন দেখা যায় না।’

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজটা যেন আশার বেলুনটা ফুটো করে দিয়েছে বাংলাদেশের। আর এক বছরেরও কম সময় আছে আসন্ন বিশ্বকাপের। তার আগে এশিয়া কাপসহ কিছু অবশ্য হাতে আছে। তবে এর মধ্যে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।