Dhaka ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টাইন ফুটবলে শোক রাট্টিনের মৃত্যুতে

12 / 100 SEO Score

 

আর্জেন্টিনা ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ও সাবেক অধিনায়ক আন্তোনিও উবালদো রাট্টিন আর নেই। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে।

শনিবার (১১ জুলাই)৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।বোকা জুনিয়র্স ও জাতীয় দলের হয়ে তার অনন্য অবদান এবং ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ঘটনার জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আন্তোনিও উবালদো রাট্টিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

রাট্টিন ক্লাব ফুটবলে আর্জেন্টাইন জায়ান্ট বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অধিনায়ক ছিলেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে মূল দলে অভিষেক হওয়া রাট্টিন টানা ১৫ বছর নীল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। বোকার হয়ে ৩৮২টি ম্যাচের সবকটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বেই ক্লাবটি ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের লিগ শিরোপা এবং ১৯৬৯ সালের কোপা আর্জেন্টিনা জয় করে।

জাতীয় দলের হয়েও রাট্টিন ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেছেন তিনি। অংশ নিয়েছেন ১৯৬২ সালের চিলি ও ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ২১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি ছিল বিশ্বকাপে এবং তিনটি কোপা আমেরিকায়। জাতীয় দলের হয়ে একটি গোলও করেছিলেন এই মিডফিল্ডার।

তবে ফুটবল ইতিহাসে রাট্টিন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে আছেন ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন তাকে লাল কার্ড (সে সময় কার্ডের প্রচলন ছিল না) দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে রাট্টিন মাঠেই প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করেন। মাঠ ছাড়ার সময় কর্নার ফ্ল্যাগে থাকা ব্রিটিশ পতাকা চেপে ধরা এবং রাজকীয় অতিথিদের জন্য রাখা লাল কার্পেটে বসে পড়ার ঘটনাটি ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, রাট্টিনের ওই প্রতিবাদী আচরণের পরই ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ডের প্রথা চালু করা হয়।

‘এল রাতা’ ডাকনামে পরিচিত রাট্টিন তার দৃঢ় নেতৃত্ব, লড়াকু মানসিকতা এবং রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে অসামান্য দক্ষতার জন্য চিরকাল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আর্জেন্টাইন ফুটবলে শোক রাট্টিনের মৃত্যুতে

Update Time : ০৭:১০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

আর্জেন্টিনা ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ও সাবেক অধিনায়ক আন্তোনিও উবালদো রাট্টিন আর নেই। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে।

শনিবার (১১ জুলাই)৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।বোকা জুনিয়র্স ও জাতীয় দলের হয়ে তার অনন্য অবদান এবং ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ঘটনার জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আন্তোনিও উবালদো রাট্টিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

রাট্টিন ক্লাব ফুটবলে আর্জেন্টাইন জায়ান্ট বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অধিনায়ক ছিলেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে মূল দলে অভিষেক হওয়া রাট্টিন টানা ১৫ বছর নীল-হলুদ জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। বোকার হয়ে ৩৮২টি ম্যাচের সবকটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বেই ক্লাবটি ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের লিগ শিরোপা এবং ১৯৬৯ সালের কোপা আর্জেন্টিনা জয় করে।

জাতীয় দলের হয়েও রাট্টিন ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেছেন তিনি। অংশ নিয়েছেন ১৯৬২ সালের চিলি ও ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ২১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি ছিল বিশ্বকাপে এবং তিনটি কোপা আমেরিকায়। জাতীয় দলের হয়ে একটি গোলও করেছিলেন এই মিডফিল্ডার।

তবে ফুটবল ইতিহাসে রাট্টিন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে আছেন ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন তাকে লাল কার্ড (সে সময় কার্ডের প্রচলন ছিল না) দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে রাট্টিন মাঠেই প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করেন। মাঠ ছাড়ার সময় কর্নার ফ্ল্যাগে থাকা ব্রিটিশ পতাকা চেপে ধরা এবং রাজকীয় অতিথিদের জন্য রাখা লাল কার্পেটে বসে পড়ার ঘটনাটি ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, রাট্টিনের ওই প্রতিবাদী আচরণের পরই ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ডের প্রথা চালু করা হয়।

‘এল রাতা’ ডাকনামে পরিচিত রাট্টিন তার দৃঢ় নেতৃত্ব, লড়াকু মানসিকতা এবং রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে অসামান্য দক্ষতার জন্য চিরকাল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।