Dhaka ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজেই বয়স ভুলে থাকেন আফজাল হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

জীবনের ৭২তম জন্মদিনেও বয়সকে নয়, কাজকেই সবচেয়ে বড় প্রেরণা মনে করেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। তার বিশ্বাস, যে মানুষ নিজের কাজ ভালোবেসে আনন্দ নিয়ে করেন, তার মুখে বয়সের ছাপ নয়, ফুটে ওঠে সেই কাজের উচ্ছ্বাস।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে জন্মদিনে কিছু মনে হয় না। অন্য দিনের মতোই লাগে। বড় পরিসরে কিছু করি না। তবে পরিবার থেকে করা হয়। বন্ধুদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পাই, কাছের মানুষরা উইশ করেন। তারা দিনটি উদযাপন করেন, আমি তাদের ভালোবাসায় সাড়া দিই। তাদের জন্যই দিনটি বিশেষ হয়ে ওঠে।’

বয়স নিয়ে তার ভাবনা সহজ ও গভীর। তিনি মনে করেন, ‘বয়স আসলে সংখ্যামাত্র। কেউ যদি তার কাজ ভালোবেসে করে, আনন্দ নিয়ে করে, তা হলে তার চেহারায় তা প্রতিফলিত হয়। মানুষ তখন তাকে দেখে বলে, আপনি তো আগের মতোই আছেন। সেই কাজের আনন্দই মানুষের বয়সের ছাপ মুছে দেয়।’

জন্মদিনে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘আমি যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আনন্দ নিয়ে কাজ করে যেতে পারি, এই চাওয়াটাই সবচেয়ে বড়।’ অভিনেতা বলেন, ‘একেকজন মানুষ একেক রকম হয়। আচার ব্যবহারও ভিন্ন হয়। আমিও একটু আলাদা। চাওয়া-পাওয়াটাও অন্যরকম। আমি নিজে যে মানুষ, তা যেন না হারাই, কথাটি সবসময় মাথায় রেখেছি।

আমার মধ্য থেকে আসল মানুষটি যেন না হারায়। যেকোনো শিল্পীর জন্য আসল মানুষটিকে ধরে রাখা দরকার।’ ১৯৫৪ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার পারুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আফজাল হোসেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। অভিনয়, নির্মাণ, চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি সবখানেই তিনি রেখেছেন দক্ষতার ছাপ।

চারুকলায় পড়াকালে ঢাকা থিয়েটারের মাধ্যমে মঞ্চে তার অভিনয়যাত্রা শুরু। এরপর সত্তর দশকের শেষ দিকে টেলিভিশনে পা রাখেন। আশি দশকে হয়ে উঠেন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা। তার সাড়া জাগানো নাটকের মধ্যে ‘পারলে না রুমকি’, ‘কূল নাই কিনার নাই’, ‘রক্তের আঙুরলতা’, ‘বহুব্রীহি’ অন্যতম।

টেলিভিশন নাটকে আফজাল-সুবর্ণা জুটি হিসেবে নন্দিত হয়েছেন, সফলতা পেয়েছেন। এই জুটি নিয়ে এখনও আলোচনা হয়। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন আফজাল। সবশেষ নুহাশ হুমায়ূনের ‘মুভিং বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নির্মাণেও সমান দক্ষ। বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবে তার সুনাম দেশজুড়ে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কাজেই বয়স ভুলে থাকেন আফজাল হোসেন

Update Time : ১০:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

জীবনের ৭২তম জন্মদিনেও বয়সকে নয়, কাজকেই সবচেয়ে বড় প্রেরণা মনে করেন প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। তার বিশ্বাস, যে মানুষ নিজের কাজ ভালোবেসে আনন্দ নিয়ে করেন, তার মুখে বয়সের ছাপ নয়, ফুটে ওঠে সেই কাজের উচ্ছ্বাস।

তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে জন্মদিনে কিছু মনে হয় না। অন্য দিনের মতোই লাগে। বড় পরিসরে কিছু করি না। তবে পরিবার থেকে করা হয়। বন্ধুদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পাই, কাছের মানুষরা উইশ করেন। তারা দিনটি উদযাপন করেন, আমি তাদের ভালোবাসায় সাড়া দিই। তাদের জন্যই দিনটি বিশেষ হয়ে ওঠে।’

বয়স নিয়ে তার ভাবনা সহজ ও গভীর। তিনি মনে করেন, ‘বয়স আসলে সংখ্যামাত্র। কেউ যদি তার কাজ ভালোবেসে করে, আনন্দ নিয়ে করে, তা হলে তার চেহারায় তা প্রতিফলিত হয়। মানুষ তখন তাকে দেখে বলে, আপনি তো আগের মতোই আছেন। সেই কাজের আনন্দই মানুষের বয়সের ছাপ মুছে দেয়।’

জন্মদিনে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘আমি যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আনন্দ নিয়ে কাজ করে যেতে পারি, এই চাওয়াটাই সবচেয়ে বড়।’ অভিনেতা বলেন, ‘একেকজন মানুষ একেক রকম হয়। আচার ব্যবহারও ভিন্ন হয়। আমিও একটু আলাদা। চাওয়া-পাওয়াটাও অন্যরকম। আমি নিজে যে মানুষ, তা যেন না হারাই, কথাটি সবসময় মাথায় রেখেছি।

আমার মধ্য থেকে আসল মানুষটি যেন না হারায়। যেকোনো শিল্পীর জন্য আসল মানুষটিকে ধরে রাখা দরকার।’ ১৯৫৪ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার পারুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আফজাল হোসেন। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। অভিনয়, নির্মাণ, চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি সবখানেই তিনি রেখেছেন দক্ষতার ছাপ।

চারুকলায় পড়াকালে ঢাকা থিয়েটারের মাধ্যমে মঞ্চে তার অভিনয়যাত্রা শুরু। এরপর সত্তর দশকের শেষ দিকে টেলিভিশনে পা রাখেন। আশি দশকে হয়ে উঠেন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা। তার সাড়া জাগানো নাটকের মধ্যে ‘পারলে না রুমকি’, ‘কূল নাই কিনার নাই’, ‘রক্তের আঙুরলতা’, ‘বহুব্রীহি’ অন্যতম।

টেলিভিশন নাটকে আফজাল-সুবর্ণা জুটি হিসেবে নন্দিত হয়েছেন, সফলতা পেয়েছেন। এই জুটি নিয়ে এখনও আলোচনা হয়। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন আফজাল। সবশেষ নুহাশ হুমায়ূনের ‘মুভিং বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নির্মাণেও সমান দক্ষ। বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবে তার সুনাম দেশজুড়ে।