Dhaka ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশে চিকিৎসার অর্থপ্রেরণ বেড়েছে দশগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

বিদেশে চিকিৎসার জন্য বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত চার বছরে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ বৈধ পথে বিদেশে অর্থপ্রেরণের পরিমাণ প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে নীতিগত শিথিলতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, হাসপাতালের নামে বা আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা যায়। পাশাপাশি নির্ধারিত সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ বহনেরও সুযোগ রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে, বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

ব্যাংকারদের ভাষ্য, ১৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় অনেকেই অনানুষ্ঠানিক পথ বেছে নেন। তাদের মতে, চিকিৎসকের সুপারিশের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বেশি অঙ্কের অর্থ ছাড়ের ক্ষমতা দেওয়া হলে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বাড়বে এবং হুন্ডিনির্ভরতাও কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে চিকিৎসা ব্যয়ে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ কমে ১৮ লাখ ডলারে নেমে আসে। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১ কোটি ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলারে পৌঁছায়।

তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ পথে পাঠানো এ অর্থ বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রকৃত চিত্রের খুবই সামান্য অংশ। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা প্রতিবছর বিদেশে চিকিৎসায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন, যার বড় অংশই এখনো অনানুষ্ঠানিক উপায়ে পরিশোধ করা হয়।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিদেশে চিকিৎসার অর্থপ্রেরণ বেড়েছে দশগুণ

Update Time : ০৯:৩৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

বিদেশে চিকিৎসার জন্য বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত চার বছরে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ বৈধ পথে বিদেশে অর্থপ্রেরণের পরিমাণ প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার পেছনে নীতিগত শিথিলতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, হাসপাতালের নামে বা আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা যায়। পাশাপাশি নির্ধারিত সীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ বহনেরও সুযোগ রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে, বিশেষ করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।

ব্যাংকারদের ভাষ্য, ১৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় অনেকেই অনানুষ্ঠানিক পথ বেছে নেন। তাদের মতে, চিকিৎসকের সুপারিশের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বেশি অঙ্কের অর্থ ছাড়ের ক্ষমতা দেওয়া হলে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বাড়বে এবং হুন্ডিনির্ভরতাও কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে চিকিৎসা ব্যয়ে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ কমে ১৮ লাখ ডলারে নেমে আসে। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১ কোটি ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলারে পৌঁছায়।

তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ পথে পাঠানো এ অর্থ বিদেশে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রকৃত চিত্রের খুবই সামান্য অংশ। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা প্রতিবছর বিদেশে চিকিৎসায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন, যার বড় অংশই এখনো অনানুষ্ঠানিক উপায়ে পরিশোধ করা হয়।