Dhaka ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তেল-গ্যাস খাত

 শ্রমিকদের মুনাফার অংশ বাতিলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

তেল ও গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলো শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের মুনাফায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার। তিনি জানান, এ বিষয়ে দেওয়া একটি প্রস্তাব শ্রমিক নেতারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আগামী রোববার যৌথ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর স্থগিতকৃত ৯২তম সভা শেষে শ্রমিক নেতারা এসব কথা জানান। সভাটি শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, শ্রম আইনের পঞ্চদশ অধ্যায়ে মালিকের মুনাফা থেকে শ্রমিকদের অংশ দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল বা সীমিত করার জন্য তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। আমরা শ্রমিক নেতারা সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়। নীতিগতভাবে সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকলেও আজই তা অনুমোদনের জন্য এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। আমরা সেই চাপ মানিনি।

বাবুল আক্তার জানান, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। তাই আমরা বলেছি, নতুন সরকার এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছি।

তিনি আরও জানান, আগামী রোববার তেল ও গ্যাস খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে প্রস্তাবটি শ্রমিকদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হলে তা মেনে নেওয়া হবে। অন্যথায় দেশীয় ও বিদেশি সব তেল-গ্যাস কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রমিকস্বার্থবিরোধী অবস্থানের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরা হবে।

শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার বলেন, সরকার দাবি করছে যে তারা কোনো টেন্ডার দিচ্ছে না বা এতে অংশ নিচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে আমলাতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এর সঙ্গে শ্রমিকদের মুনাফার ৫ শতাংশের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি লাভ করলে সেই লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা। এই ৫ শতাংশের মধ্যে ৮০ শতাংশ সরাসরি সমান হারে শ্রমিকদের দেওয়া হয়, ১০ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে এবং বাকি ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা হয়।

তবে বর্তমানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে এমন একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত এই ৫ শতাংশ দেওয়া হবে না। বিদেশি আটটি তেল ও গ্যাস কোম্পানি দাবি করছে, এই হার বেশি হওয়ায় তারা তা দিতে পারবে না। শ্রমিক নেতারা বলছেন, এটি কেবল লাভের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এটি বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইনের অংশ।

তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং আগামী বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ওয়াকার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল সরকারের পক্ষ থেকে। আমরা শ্রমিক নেতারা সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি লাভ করলে সেই লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা। কিন্তু তারা সেটা দিতে চাচ্ছে না। এজন্য আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।

মাহফুজা//

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তেল-গ্যাস খাত

 শ্রমিকদের মুনাফার অংশ বাতিলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

Update Time : ০৭:০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
8 / 100 SEO Score

তেল ও গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলো শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের মুনাফায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার। তিনি জানান, এ বিষয়ে দেওয়া একটি প্রস্তাব শ্রমিক নেতারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আগামী রোববার যৌথ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর স্থগিতকৃত ৯২তম সভা শেষে শ্রমিক নেতারা এসব কথা জানান। সভাটি শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, শ্রম আইনের পঞ্চদশ অধ্যায়ে মালিকের মুনাফা থেকে শ্রমিকদের অংশ দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল বা সীমিত করার জন্য তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। আমরা শ্রমিক নেতারা সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়। নীতিগতভাবে সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকলেও আজই তা অনুমোদনের জন্য এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। আমরা সেই চাপ মানিনি।

বাবুল আক্তার জানান, সরকারের মেয়াদ শেষের দিকে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। তাই আমরা বলেছি, নতুন সরকার এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তবে বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছি।

তিনি আরও জানান, আগামী রোববার তেল ও গ্যাস খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে প্রস্তাবটি শ্রমিকদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হলে তা মেনে নেওয়া হবে। অন্যথায় দেশীয় ও বিদেশি সব তেল-গ্যাস কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রমিকস্বার্থবিরোধী অবস্থানের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরা হবে।

শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার বলেন, সরকার দাবি করছে যে তারা কোনো টেন্ডার দিচ্ছে না বা এতে অংশ নিচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে আমলাতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। এর সঙ্গে শ্রমিকদের মুনাফার ৫ শতাংশের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি লাভ করলে সেই লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা। এই ৫ শতাংশের মধ্যে ৮০ শতাংশ সরাসরি সমান হারে শ্রমিকদের দেওয়া হয়, ১০ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে এবং বাকি ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা হয়।

তবে বর্তমানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে এমন একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত এই ৫ শতাংশ দেওয়া হবে না। বিদেশি আটটি তেল ও গ্যাস কোম্পানি দাবি করছে, এই হার বেশি হওয়ায় তারা তা দিতে পারবে না। শ্রমিক নেতারা বলছেন, এটি কেবল লাভের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এটি বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইনের অংশ।

তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং আগামী বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ওয়াকার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল সরকারের পক্ষ থেকে। আমরা শ্রমিক নেতারা সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি লাভ করলে সেই লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা। কিন্তু তারা সেটা দিতে চাচ্ছে না। এজন্য আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।

মাহফুজা//