ডিউটি পাসে কোটি টাকার অনিয়ম
বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে ডিউটি পাস ব্যবহারের নামে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সহজের সার্ভারের তথ্য বলছে, মাত্র এক বছরে চারটি স্টেশনের চারটি কার্ড ব্যবহার করে ৪ হাজার ৭১৬ বার ডিউটি পাস ইস্যু করা হয়েছে, যার বিপরীতে নথিভুক্ত অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯ টাকা।বিপুলসংখ্যক পাস ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, অস্বাভাবিক ডিউটি কার্ড পাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে গত ১৩ জুলাই পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের (সিসিএম) পক্ষে উপপ্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার (এফএঅ্যান্ডসিএও, পশ্চিম) কাছে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সার্ভারের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ডিউটি পাস ইস্যু হয়েছে দিনাজপুর স্টেশনের সংশ্লিষ্ট কার্ডে। এ কার্ডে ১ হাজার ৯৫০ বার পাস ইস্যুর বিপরীতে নথিভুক্ত অর্থের পরিমাণ ৪৪ লাখ ৮০ হাজার ৩০০ টাকা। রাজশাহীর কার্ডে ১ হাজার ৫০০ বার পাস ইস্যু হয়েছে, যার বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৮১৩ টাকা।
এ ছাড়া ঈশ্বরদী স্টেশনের কার্ডে ৯৬৫ বার পাস ইস্যু হয়েছে। এর বিপরীতে নথিভুক্ত অর্থ ১৯ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৪ টাকা। সার্ভারের রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী, কার্ডটি টি আই/এ জিএম আবুল কালাম আজাদের নামে নিবন্ধিত। অন্যদিকে পার্বতীপুরের কার্ডে ৩০১ বার পাস ইস্যুর বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮৪২ টাকা।
অস্বাভাবিক ডিউটি কার্ড পাস ব্যবহারের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে গত ১৩ জুলাই পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের পক্ষে উপপ্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (এফএঅ্যান্ডসিএও, পশ্চিম) বরাবর চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) পর্যন্ত পাঠানো হয়েছে। তবে মহাপরিচালক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, রাজশাহী রেলস্টেশনের দুই বুকিং সহকারীর বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, তাঁদের মাধ্যমে একটি চক্র টিকিট সংগ্রহ করে থাকে। তাঁদের একজনের স্ত্রী পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপকের দপ্তরে কর্মরত বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিউটি পাসের অনুমোদন, ব্যবহারকারী, সুবিধাভোগী এবং আর্থিক লেনদেনের নথি যাচাই করে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বের করা জরুরি। রেলের রাজস্ব সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।






















