Dhaka ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ : মাঝপথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গাজীপুরগামী বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। গাজীপুর চৌরাস্তা ও আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে গাজীপুরগামী অনেক বাস মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এ ঘটনার পর বিক্ষোভকারীরা গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় হামলার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। এ সময় থানার ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সেখানে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়ে আশপাশের এলাকাতেও। গাজীপুর চৌরাস্তা, বাইপাস, হারিকেনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গাজীপুরমুখী বাস ও অন্যান্য যানবাহন মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে গাজীপুরা মোড়ে এসে অনেক বাস যাত্রীদের নামিয়ে বা গন্তব্য পরিবর্তন করে ফিরে যেতে থাকে। এতে কর্মস্থল ও নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। বাসের গন্তব্য নিয়ে চালক ও হেলপারদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

প্রভাতী বনশ্রী বাসের যাত্রী আব্দুল হামিদ বলেন, প্রথমে বলা হয়েছে বাস গাজীপুর পর্যন্ত যাবে, এমনকি বাইপাস পর্যন্ত যাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে বলা হচ্ছে আর যাবে না। এ নিয়ে অনেক যাত্রীর সঙ্গে বাসের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হচ্ছে।

রুবিনা আক্তার নামে আরেক যাত্রী বলেন, কিছু বাস যাচ্ছে, আবার কিছু বাস নিজেদের ইচ্ছামতো মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি হলেও এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।

তবে সড়কে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের দাবি, মহাসড়ক পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বাইপাস এলাকায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, সকাল থেকে বেশির ভাগ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বড়বাড়ী এলাকায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন বুধবার ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় একদিকে যেমন যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four + seventeen =

About Author Information

শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ : মাঝপথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গাজীপুরগামী বাস

Update Time : ০৮:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। গাজীপুর চৌরাস্তা ও আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে গাজীপুরগামী অনেক বাস মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এ ঘটনার পর বিক্ষোভকারীরা গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানায় হামলার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। এ সময় থানার ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সেখানে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়ে আশপাশের এলাকাতেও। গাজীপুর চৌরাস্তা, বাইপাস, হারিকেনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গাজীপুরমুখী বাস ও অন্যান্য যানবাহন মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে গাজীপুরা মোড়ে এসে অনেক বাস যাত্রীদের নামিয়ে বা গন্তব্য পরিবর্তন করে ফিরে যেতে থাকে। এতে কর্মস্থল ও নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। বাসের গন্তব্য নিয়ে চালক ও হেলপারদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।

প্রভাতী বনশ্রী বাসের যাত্রী আব্দুল হামিদ বলেন, প্রথমে বলা হয়েছে বাস গাজীপুর পর্যন্ত যাবে, এমনকি বাইপাস পর্যন্ত যাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে বলা হচ্ছে আর যাবে না। এ নিয়ে অনেক যাত্রীর সঙ্গে বাসের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হচ্ছে।

রুবিনা আক্তার নামে আরেক যাত্রী বলেন, কিছু বাস যাচ্ছে, আবার কিছু বাস নিজেদের ইচ্ছামতো মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি হলেও এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।

তবে সড়কে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের দাবি, মহাসড়ক পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। বাইপাস এলাকায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, সকাল থেকে বেশির ভাগ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বড়বাড়ী এলাকায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন বুধবার ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় একদিকে যেমন যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা।