Dhaka ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে বৈষম্যের অভিযোগ

8 / 100 SEO Score

সারা দেশে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে বৈষম্য ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একযোগে ৮৫ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। এর মধ্যে ঢাকার ১৮টি কার্যালয়ে লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তা পদায়ন করা হলেও বাকি ৬৭ জনকে বদলি করা হয়েছে লটারি ছাড়াই। এতে বদলি-পদায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশে বর্তমানে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত আছেন। শূন্য রয়েছে আরও ১৩৯টি পদ। গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে নিবন্ধন কার্যক্রম। ফলে জমি কেনাবেচা ও দলিল নিবন্ধনের মতো সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

গত ৬ অক্টোবর ঢাকার ১৮টি সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে পদায়নের জন্য লটারি অনুষ্ঠিত হয়। তখন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা, কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা ও কার্যালয়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন করা হবে। দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন সুবিধাজনক কর্মস্থল বা ‘প্রাইজ পোস্টিংয়েও’ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে পরবর্তী সময়ে লটারি ছাড়াই ৬৭ জনকে বদলি করায় সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনেক কর্মকর্তা ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ঘুরেফিরে গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি এবং দলিল নিবন্ধনে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ময়মনসিংহ সদরের সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্রয় নিষিদ্ধ মৌজার জমি নিবন্ধন এবং প্রতিটি দলিলের বিপরীতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সোমবার তাঁকে নেত্রকোনার বারহাট্টায় বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ভালুকার সাব-রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল ইসলাম, ত্রিশালের ওমর ফারুক এবং চট্টগ্রামের কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী সদরের সাব-রেজিস্ট্রার বুলবুল আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তিনি জেলা রেজিস্ট্রারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকার জেলা রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, শূন্য পদ পূরণে পিএসসির মাধ্যমে ৮৪ জন সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল সংকট নিরসনের পাশাপাশি বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

seventeen − 1 =

About Author Information

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে বৈষম্যের অভিযোগ

Update Time : ১১:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

সারা দেশে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন নিয়ে বৈষম্য ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একযোগে ৮৫ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করেছে আইন ও বিচার বিভাগ। এর মধ্যে ঢাকার ১৮টি কার্যালয়ে লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তা পদায়ন করা হলেও বাকি ৬৭ জনকে বদলি করা হয়েছে লটারি ছাড়াই। এতে বদলি-পদায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশে বর্তমানে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত আছেন। শূন্য রয়েছে আরও ১৩৯টি পদ। গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে জনবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে নিবন্ধন কার্যক্রম। ফলে জমি কেনাবেচা ও দলিল নিবন্ধনের মতো সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

গত ৬ অক্টোবর ঢাকার ১৮টি সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে পদায়নের জন্য লটারি অনুষ্ঠিত হয়। তখন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা, কাজের চাপ সামলানোর সক্ষমতা ও কার্যালয়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন করা হবে। দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন সুবিধাজনক কর্মস্থল বা ‘প্রাইজ পোস্টিংয়েও’ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে পরবর্তী সময়ে লটারি ছাড়াই ৬৭ জনকে বদলি করায় সেই উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনেক কর্মকর্তা ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ঘুরেফিরে গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি এবং দলিল নিবন্ধনে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ময়মনসিংহ সদরের সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্রয় নিষিদ্ধ মৌজার জমি নিবন্ধন এবং প্রতিটি দলিলের বিপরীতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সোমবার তাঁকে নেত্রকোনার বারহাট্টায় বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া ভালুকার সাব-রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল ইসলাম, ত্রিশালের ওমর ফারুক এবং চট্টগ্রামের কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালী সদরের সাব-রেজিস্ট্রার বুলবুল আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তিনি জেলা রেজিস্ট্রারের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকার জেলা রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, শূন্য পদ পূরণে পিএসসির মাধ্যমে ৮৪ জন সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল সংকট নিরসনের পাশাপাশি বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।