Dhaka ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বক্তব্যের সুযোগ না পেয়ে সংসদ ছাড়লেন বিরোধী সদস্যরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সময় না পাওয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১ম দিনের কার্যসূচির শেষ দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার সংসদের অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

দিনের কার্যসূচির শেষভাগে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের কপি পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকারের তিন দিনের এই শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা থাকলেও, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, তা সংসদকে অবহিত করা উচিত ছিল।

আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যতিক্রমী প্র্যাকটিস বিশেষ পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য হলেও এটিকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করা হলে ৭৭ বিধির মূল উদ্দেশ্যই ক্ষুণ্ন হবে। একই সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কী কারণে তিন দিনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেন।

প্রশ্নের জবাবে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিল দুটি উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তিনি সংসদকে জানান যে, বিল দুটি ২০২৬ সালের ২৩ জুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল, যার ফলে সব ধরনের কার্যপ্রণালীগত শর্ত পূরণ হয়েছে। স্পিকারের এমন জবাবের পরপরই বিরোধী জোটের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।

সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বিরোধী দলের সামনে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের দলের প্রাপ্য ২৬ শতাংশ বক্তব্যের সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে নতুন বিল উত্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এখানে যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

নাজিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করলেও স্পিকারের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এমনকি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার পালা এলেও তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধির অধীনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদে যদি তাদের কথা বলতেই না দেওয়া হয়, তাহলে সেখানে বসে থাকার কোনো অর্থ হয় না। মূলত ন্যায্য বক্তব্যের সময় না পাওয়া, যথাযথ সংসদীয় কার্যপ্রণালি অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার এই তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণেই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বক্তব্যের সুযোগ না পেয়ে সংসদ ছাড়লেন বিরোধী সদস্যরা

Update Time : ০৬:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার ন্যায্য সময় না পাওয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১ম দিনের কার্যসূচির শেষ দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পিকার সংসদের অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন।

দিনের কার্যসূচির শেষভাগে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিল দুটি উত্থাপনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান।

তিনি অভিযোগ করেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৭৭ বিধি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে বিলের কপি পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, স্পিকারের তিন দিনের এই শর্ত শিথিল করার ক্ষমতা থাকলেও, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, তা সংসদকে অবহিত করা উচিত ছিল।

আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যতিক্রমী প্র্যাকটিস বিশেষ পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য হলেও এটিকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করা হলে ৭৭ বিধির মূল উদ্দেশ্যই ক্ষুণ্ন হবে। একই সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কী কারণে তিন দিনের শর্ত শিথিল করা হয়েছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেন।

প্রশ্নের জবাবে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিল দুটি উত্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তিনি সংসদকে জানান যে, বিল দুটি ২০২৬ সালের ২৩ জুন সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল, যার ফলে সব ধরনের কার্যপ্রণালীগত শর্ত পূরণ হয়েছে। স্পিকারের এমন জবাবের পরপরই বিরোধী জোটের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।

সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বিরোধী দলের সামনে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী তাদের দলের প্রাপ্য ২৬ শতাংশ বক্তব্যের সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে নতুন বিল উত্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এখানে যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

নাজিবুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি তিনি সংসদে উত্থাপন করলেও স্পিকারের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এমনকি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার পালা এলেও তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধির অধীনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদে যদি তাদের কথা বলতেই না দেওয়া হয়, তাহলে সেখানে বসে থাকার কোনো অর্থ হয় না। মূলত ন্যায্য বক্তব্যের সময় না পাওয়া, যথাযথ সংসদীয় কার্যপ্রণালি অনুসরণ না করা এবং পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার এই তিনটি সুনির্দিষ্ট কারণেই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে।