Dhaka ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিএনএনের প্রতিবেদনে ইরানের পরমাণু স্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ইরান তাদের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মাণ বা মেরামত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের ১৪ দফার যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল, তাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। কিন্তু চুক্তির পরপরই নতুন এই তৎপরতা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’ যৌথভাবে সাম্প্রতিক এসব স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারচিন এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হামলার আগে এর গুরুত্ব বিবেচনায় চারপাশে সুরক্ষার জন্য কংক্রিটের দেয়ালও তুলেছিল ইরান।

তবে জুন ও জুলাই মাসে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান ওই স্থাপনাটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। জুনে ধারণ করা ছবিতে হামলার কারণে সৃষ্ট গর্তগুলো অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখতে দেখা যায়, যা জুলাই মাসে জালের আচ্ছাদন (মেশ) দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এই পুরোটা সময় জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সমঝোতা স্মারক কার্যকর ছিল।

পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সন্দেহ থাকা আরেকটি স্থান হলো ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’। গত মাসে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরের কিছু স্যাটেলাইট চিত্রে ওই এলাকার টানেলগুলোতে বেশ কিছু যানবাহনের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্পষ্টতই ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।

পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরান তাদের বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারও মেরামত শুরু করেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তাদের মিত্র দেশগুলোও ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তবে ইসফাহান, ফোরদো এবং নাতাঞ্জের মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ শুরু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে বৃহত্তর কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না।

চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্পত্তি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সম্মত হবে। চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে সমাধানের কথা ছিল।

তবে চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের এই মেরামত তৎপরতা ধরা পড়ায় নতুন করে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরানের অব্যাহত হামলার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির ওপর নতুন করে হামলাও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সিএনএনের প্রতিবেদনে ইরানের পরমাণু স্থাপনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ০৭:০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ইরান তাদের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মাণ বা মেরামত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের ১৪ দফার যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল, তাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। কিন্তু চুক্তির পরপরই নতুন এই তৎপরতা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’ যৌথভাবে সাম্প্রতিক এসব স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারচিন এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হামলার আগে এর গুরুত্ব বিবেচনায় চারপাশে সুরক্ষার জন্য কংক্রিটের দেয়ালও তুলেছিল ইরান।

তবে জুন ও জুলাই মাসে ধারণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান ওই স্থাপনাটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছে। জুনে ধারণ করা ছবিতে হামলার কারণে সৃষ্ট গর্তগুলো অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখতে দেখা যায়, যা জুলাই মাসে জালের আচ্ছাদন (মেশ) দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অথচ এই পুরোটা সময় জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সমঝোতা স্মারক কার্যকর ছিল।

পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সন্দেহ থাকা আরেকটি স্থান হলো ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’। গত মাসে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরের কিছু স্যাটেলাইট চিত্রে ওই এলাকার টানেলগুলোতে বেশ কিছু যানবাহনের সন্দেহজনক আনাগোনা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্পষ্টতই ওয়াশিংটনের সঙ্গে করা চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।

পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরান তাদের বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারও মেরামত শুরু করেছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি তাদের মিত্র দেশগুলোও ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। তবে ইসফাহান, ফোরদো এবং নাতাঞ্জের মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ শুরু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে বৃহত্তর কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর অন্যতম শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং এর বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না।

চুক্তিতে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্পত্তি করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সম্মত হবে। চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক চাহিদা পূরণের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে সমাধানের কথা ছিল।

তবে চুক্তির মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের এই মেরামত তৎপরতা ধরা পড়ায় নতুন করে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরানের অব্যাহত হামলার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির ওপর নতুন করে হামলাও শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।