Dhaka ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষায় খিচুড়ি কেন উপকারী

12 / 100 SEO Score

 

বর্ষার দিনে ধোঁয়া ওঠা এক প্লেট খিচুড়ি যেমন আরামদায়ক, তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। চাল, ডাল, মসলা ও সবজির সমন্বয়ে তৈরি এই খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, সহজে হজমে সহায়তা করতে এবং ঋতু পরিবর্তনজনিত নানা অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খিচুড়ির পুষ্টিগুণ : পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, খিচুড়ি থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত শর্করা ও শক্তি। ডাল জোগায় প্রোটিন ও আঁশ। ঘি বা তেল শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে এবং পুষ্টি শোষণে সহায়ক। হলুদে থাকা কারকিউমিন ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে এবং আদা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীর গরম রাখে। খিচুড়িতে সবজি যোগ করলে আঁশের মাত্রা বাড়ে।

গোলমরিচ ও জিরার মতো মসলা বিপাকপ্রক্রিয়া উন্নত করে। চাল ও ডালের মিশ্রণে তৈরি খিচুড়ি লাইসিন নামক অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের চমৎকার উৎস। শুধু ডাল বা শুধু ভাত খেলে এটি পাওয়া যায় না। লাইসিন শরীরে তৈরি হয় না, তাই খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, ক্যালসিয়াম শোষণ ও কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং হারপিস বা কোল্ড সোর ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। খিচুড়িতে পাওয়া লাইসিনের গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। এটি উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’ হিসেবে কাজ করে। খিচুড়ি ছাড়াও এটি পাওয়া যায় সামুদ্রিক মাছ, ডিম, সয়া প্রোটিন, স্পিরুলিনা, পনির, লাল মাংস ও মুরগির মাংসে।

কিন্তু বর্ষাকালে পরিস্থিতিগত কারণে সেসব উপকরণ সহজলভ্য না-ও হতে পারে। সে সময় খিচুড়ি হয়ে উঠতে পারে অনন্য খাবার।

আমাদের দেশে হাজারো ধরনের খিচুড়ির রেসিপি পাওয়া যায়। সেসব থেকে বেছে নিয়ে রান্না করতে পারেন। এখানে একটি রেসিপি রইল আপনাদের জন্য।

পাঁচমিশালি ডালের খিচুড়ি
উপকরণ : পোলাওয়ের চাল ৫০০ গ্রাম, মসুর ডাল, ভাজা মুগ ডাল, খেসারি ডাল, অ্যাংকর ও বুটের ডাল ৫০ গ্রাম করে, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৬ থেকে ৭টি, সরিষার তেল আধা কাপ, আদা ও রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ করে, লবণ স্বাদমতো, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা ২ থেকে ৩টি এবং পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি : মসুর ডাল বাদে সব ডাল ধুয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেদ্ধ করে রাখুন। এবার মসুর ডাল ও পোলাওয়ের চাল একসঙ্গে ধুয়ে হাঁড়িতে নিন। সেই হাঁড়িতে ডাল সেদ্ধ, পেঁয়াজকুচি, আদা-রসুনবাটা, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। তারপর চুলায় ঢাকনাসহ রান্না করুন। চাল ফুটে এলে চুলার তাপ কমিয়ে নেড়েচেড়ে কাঁচা মরিচের ফালি, ঘি দিয়ে দমে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রান্না করলেই তৈরি হয়ে যাবে পাঁচমিশালি ডালের খিচুড়ি। পরিবেশন করুন ইলিশ ও বেগুন ভাজা আর সালাদ দিয়ে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বর্ষায় খিচুড়ি কেন উপকারী

Update Time : ০৬:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

বর্ষার দিনে ধোঁয়া ওঠা এক প্লেট খিচুড়ি যেমন আরামদায়ক, তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। চাল, ডাল, মসলা ও সবজির সমন্বয়ে তৈরি এই খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, সহজে হজমে সহায়তা করতে এবং ঋতু পরিবর্তনজনিত নানা অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খিচুড়ির পুষ্টিগুণ : পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, খিচুড়ি থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত শর্করা ও শক্তি। ডাল জোগায় প্রোটিন ও আঁশ। ঘি বা তেল শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে এবং পুষ্টি শোষণে সহায়ক। হলুদে থাকা কারকিউমিন ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে এবং আদা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীর গরম রাখে। খিচুড়িতে সবজি যোগ করলে আঁশের মাত্রা বাড়ে।

গোলমরিচ ও জিরার মতো মসলা বিপাকপ্রক্রিয়া উন্নত করে। চাল ও ডালের মিশ্রণে তৈরি খিচুড়ি লাইসিন নামক অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের চমৎকার উৎস। শুধু ডাল বা শুধু ভাত খেলে এটি পাওয়া যায় না। লাইসিন শরীরে তৈরি হয় না, তাই খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, ক্যালসিয়াম শোষণ ও কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং হারপিস বা কোল্ড সোর ভাইরাসের প্রকোপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। খিচুড়িতে পাওয়া লাইসিনের গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। এটি উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’ হিসেবে কাজ করে। খিচুড়ি ছাড়াও এটি পাওয়া যায় সামুদ্রিক মাছ, ডিম, সয়া প্রোটিন, স্পিরুলিনা, পনির, লাল মাংস ও মুরগির মাংসে।

কিন্তু বর্ষাকালে পরিস্থিতিগত কারণে সেসব উপকরণ সহজলভ্য না-ও হতে পারে। সে সময় খিচুড়ি হয়ে উঠতে পারে অনন্য খাবার।

আমাদের দেশে হাজারো ধরনের খিচুড়ির রেসিপি পাওয়া যায়। সেসব থেকে বেছে নিয়ে রান্না করতে পারেন। এখানে একটি রেসিপি রইল আপনাদের জন্য।

পাঁচমিশালি ডালের খিচুড়ি
উপকরণ : পোলাওয়ের চাল ৫০০ গ্রাম, মসুর ডাল, ভাজা মুগ ডাল, খেসারি ডাল, অ্যাংকর ও বুটের ডাল ৫০ গ্রাম করে, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, কাঁচা মরিচ ৬ থেকে ৭টি, সরিষার তেল আধা কাপ, আদা ও রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ করে, লবণ স্বাদমতো, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা ২ থেকে ৩টি এবং পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি : মসুর ডাল বাদে সব ডাল ধুয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেদ্ধ করে রাখুন। এবার মসুর ডাল ও পোলাওয়ের চাল একসঙ্গে ধুয়ে হাঁড়িতে নিন। সেই হাঁড়িতে ডাল সেদ্ধ, পেঁয়াজকুচি, আদা-রসুনবাটা, এলাচি, দারুচিনি, তেজপাতা, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। তারপর চুলায় ঢাকনাসহ রান্না করুন। চাল ফুটে এলে চুলার তাপ কমিয়ে নেড়েচেড়ে কাঁচা মরিচের ফালি, ঘি দিয়ে দমে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রান্না করলেই তৈরি হয়ে যাবে পাঁচমিশালি ডালের খিচুড়ি। পরিবেশন করুন ইলিশ ও বেগুন ভাজা আর সালাদ দিয়ে।