Dhaka ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, ‘আগ্রাসন’ বলছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

আফগানিস্তানের সীমানার ভেতরে পাকিস্তানের চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে ভারত। নয়া দিল্লি এই সামরিক পদক্ষেপকে একটি চরম আগ্রাসন এবং আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টকারী হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আফগানিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে রবিবার এবং সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের এই বোমাবর্ষণ সম্পূর্ণভাবে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর আঘাত।

নয়া দিল্লির মতে পাকিস্তান মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা করার ব্যর্থতা ঢাকতেই প্রতিবেশী দেশের ওপর এই ধরনের মরিয়া ও অবিবেচকের মতো সহিংসতা পরিচালনা করছে। ভারত এই হামলায় নিহত সাধারণ আফগান পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অন্য দিকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার জানিয়েছে যে পাকিস্তানের এই বিশেষ ডাবল-ট্যাপ বিমান হামলায় দেশটির তিনটি পূর্ব ধর্মীয় ও সীমান্তবর্তী প্রদেশে এ পর্যন্ত ৩৬ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

পাক্তিয়া প্রদেশের ৬৩ বছর বয়সী বাসিন্দা আদম খান এএফপি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রক্তাক্ত শিশুদের অবস্থা এবং তাদের মা-বাবার আর্তনাদ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পাক্তিকা প্রদেশের স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গালের তথ্য অনুযায়ী একটি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের ওপর বোমা পড়লে ওই বাড়ির ছয়জন সদস্য ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেছেন যে পাক্তিয়া অঞ্চলে প্রথম দফা হামলার পর যখন সাধারণ মানুষ উদ্ধার কাজে অংশ নিতে ছুটে আসেন, তখন সেখানে দ্বিতীয়বার অত্যন্ত অনৈতিকভাবে ডাবল-ট্যাপ বোমাবর্ষণ করা হয়। তবে এই চাঞ্চল্যকর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অবশ্য দাবি করেছেন যে করাচি হামলার সঙ্গে জড়িত টিটিপির বিচ্ছিন্ন দল জামাত-উল-আহরারের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং এতে ২৯ জন সন্ত্রাসী খতম হয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলার পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও বড় ধরনের সীমান্ত সংঘাত। ২০২১ সালে কাবুলে তালেবান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা গত ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের মাটিতে কোনো ধরনের উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, ‘আগ্রাসন’ বলছে ভারত

Update Time : ০৫:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

আফগানিস্তানের সীমানার ভেতরে পাকিস্তানের চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে ভারত। নয়া দিল্লি এই সামরিক পদক্ষেপকে একটি চরম আগ্রাসন এবং আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টকারী হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।

আফগানিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে রবিবার এবং সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের এই বোমাবর্ষণ সম্পূর্ণভাবে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর আঘাত।

নয়া দিল্লির মতে পাকিস্তান মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা করার ব্যর্থতা ঢাকতেই প্রতিবেশী দেশের ওপর এই ধরনের মরিয়া ও অবিবেচকের মতো সহিংসতা পরিচালনা করছে। ভারত এই হামলায় নিহত সাধারণ আফগান পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অন্য দিকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার জানিয়েছে যে পাকিস্তানের এই বিশেষ ডাবল-ট্যাপ বিমান হামলায় দেশটির তিনটি পূর্ব ধর্মীয় ও সীমান্তবর্তী প্রদেশে এ পর্যন্ত ৩৬ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

পাক্তিয়া প্রদেশের ৬৩ বছর বয়সী বাসিন্দা আদম খান এএফপি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রক্তাক্ত শিশুদের অবস্থা এবং তাদের মা-বাবার আর্তনাদ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পাক্তিকা প্রদেশের স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গালের তথ্য অনুযায়ী একটি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের ওপর বোমা পড়লে ওই বাড়ির ছয়জন সদস্য ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেছেন যে পাক্তিয়া অঞ্চলে প্রথম দফা হামলার পর যখন সাধারণ মানুষ উদ্ধার কাজে অংশ নিতে ছুটে আসেন, তখন সেখানে দ্বিতীয়বার অত্যন্ত অনৈতিকভাবে ডাবল-ট্যাপ বোমাবর্ষণ করা হয়। তবে এই চাঞ্চল্যকর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার অবশ্য দাবি করেছেন যে করাচি হামলার সঙ্গে জড়িত টিটিপির বিচ্ছিন্ন দল জামাত-উল-আহরারের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং এতে ২৯ জন সন্ত্রাসী খতম হয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত মার্চ মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলার পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও বড় ধরনের সীমান্ত সংঘাত। ২০২১ সালে কাবুলে তালেবান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যা গত ফেব্রুয়ারি মাসে পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের মাটিতে কোনো ধরনের উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে।