Dhaka ১২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক
10 / 100 SEO Score

 

চলমান বিশ্বকাপের বেশ কিছু ম্যাচেই রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর মধ্যে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচটি সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচের একটি। যেখানে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের এবং ফিফার বিরুদ্ধে সরাসরি আর্জেন্টিনার পক্ষে ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা রাখার অভিযোগ তোলেন মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়রা। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মাঝেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা।

ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। এরপর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে লিওনেল মেসির দল ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। তবে মিশরের একটি গোল বাতিল এবং সম্ভাব্য ফাউল নাকচ করা নিয়ে রেফারির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির কোচ হোসাম হাসান। তাদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা। তার মতে– ফিফার সভাপতিও চাইলে রেফারির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারেন না এবং রেফারিরা স্বাধীনভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।

ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রধান রেফারিং কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আর আটটি বড় ম্যাচ বাকি। সামগ্রিকভাবে আমরা সন্তুষ্ট। তবে তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো না-ও হতে পারে, যা স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আরও কঠোর পরিশ্রম করে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করেন।’

রেফারির বিরুদ্ধে গঠনমূলক আলোচনার সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই ফুটবলের অংশ হিসেবে থাকবে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগ থেকে অনেক সময় এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যার ফলে রেফারি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে পড়েন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

‘একইভাবে কেউ দাবি করতে পারেন না যে ফিফার রেফারিং কার্যক্রম কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়, এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মাধ্যমেও নয়। তিনি সবসময় ফিফা টিম ওয়ান (এলিট রেফারিদের প্যানেল)-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেখিয়েছেন এবং আমাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার ওপর আস্থা রেখেছেন। ম্যাচ কর্মকর্তারা সৎ সিদ্ধান্তই নেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সবসময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’

চলমান কোনো বিতর্ক বা সিদ্ধান্ত নিয়ে টুর্নামেন্টের মাঝে মন্তব্য করা থেকে দূরে থাকার কথা জানান কোলিনা, ‘সাধারণত কোনো টুর্নামেন্ট চলাকালে আমরা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাই না। তবে সম্প্রতি আমরা ব্যাখ্যা করেছি, যখন আক্রমণভাগের কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া ও গোল বাঁচানোর সুযোগ বাধাগ্রস্ত করেন, তখন ম্যাচ কর্মকর্তারা কীভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করবেন। একইসঙ্গে আরেকটি বিতর্কিত বিষয়ও পরিষ্কার করতে চেয়েছি।’

এরপরই ফিফার অভিজ্ঞ এই রেফারিং কর্মকর্তা আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারি লেটেক্সিয়ের সিদ্ধান্ত ও ভিএআর নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রতিটি গোল হওয়ার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) আক্রমণভাগের বল দখলের পুরো ধাপ (অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ– এপিপি) পরীক্ষা করে। যদি গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয়, তাহলে ভিএআর রেফারিকে মাঠের পাশে গিয়ে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত (অন-ফিল্ড রিভিউ) নেওয়ার সুপারিশ করে। এক্ষেত্রে ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে কিংবা ঘটনার পর কত সময় পেরিয়েছে– এমন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।’

আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তের কথা এবার সরাসরি উল্লেখ করলেন পিয়েরলুইজি কোলিনা, ‘এমন একটি উদাহরণ ছিল আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ। সেখানে মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারোয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার ৬ নম্বর খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। আমাদের মতে ফাউল মানেই ফাউল। সেটি যতই “স্পষ্ট” বা “কম স্পষ্ট” মনে হোক না কেন, যদি রেফারি মাঠে ঘটনাটি দেখতে না পান, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। আবার গোলের আগের কোনো ফাউলও শনাক্ত না হলে সে বিষয়েও রেফারিকে জানিয়ে দেয় ভিএআর।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রাখা ফাউল। কিন্তু কোনো ডিফেন্ডার যদি আগে বল স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ঘটে, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। এই উদাহরণও একই ম্যাচের শেষদিকে দেখা গেছে। সেখানে রেফারি এবং ভিএআর উভয়েই মিশরের ১০ নম্বর তারকা মোহামেদ সালাহ এবং আর্জেন্টিনার ১০ (মূলত ৯) নম্বর হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া সংস্পর্শকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অবশ্যই কিছু সিদ্ধান্তে সবসময়ই ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের একটি উপাদান থাকবে। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এই নীতির প্রয়োগে আমরা সন্তুষ্ট।’

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের বিতর্কে মুখ খুলল ফিফা

Update Time : ০৭:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

চলমান বিশ্বকাপের বেশ কিছু ম্যাচেই রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এর মধ্যে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের ম্যাচটি সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচের একটি। যেখানে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ের এবং ফিফার বিরুদ্ধে সরাসরি আর্জেন্টিনার পক্ষে ম্যাচ নির্ধারণী ভূমিকা রাখার অভিযোগ তোলেন মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়রা। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মাঝেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান স্পষ্ট করল ফিফা।

ফাইনাল নিশ্চিতের লড়াইয়ে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। এরপর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে লিওনেল মেসির দল ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয়। তবে মিশরের একটি গোল বাতিল এবং সম্ভাব্য ফাউল নাকচ করা নিয়ে রেফারির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির কোচ হোসাম হাসান। তাদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা। তার মতে– ফিফার সভাপতিও চাইলে রেফারির সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারেন না এবং রেফারিরা স্বাধীনভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেন।

ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রধান রেফারিং কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আর আটটি বড় ম্যাচ বাকি। সামগ্রিকভাবে আমরা সন্তুষ্ট। তবে তুলনামূলকভাবে অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় পরিকল্পনামতো না-ও হতে পারে, যা স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আরও কঠোর পরিশ্রম করে পরবর্তী ম্যাচের জন্য নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করেন।’

রেফারির বিরুদ্ধে গঠনমূলক আলোচনার সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই ফুটবলের অংশ হিসেবে থাকবে। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগ থেকে অনেক সময় এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যার ফলে রেফারি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা হুমকির মুখে পড়েন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

‘একইভাবে কেউ দাবি করতে পারেন না যে ফিফার রেফারিং কার্যক্রম কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়, এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মাধ্যমেও নয়। তিনি সবসময় ফিফা টিম ওয়ান (এলিট রেফারিদের প্যানেল)-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন দেখিয়েছেন এবং আমাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার ওপর আস্থা রেখেছেন। ম্যাচ কর্মকর্তারা সৎ সিদ্ধান্তই নেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতো তারাও সবসময় নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’

চলমান কোনো বিতর্ক বা সিদ্ধান্ত নিয়ে টুর্নামেন্টের মাঝে মন্তব্য করা থেকে দূরে থাকার কথা জানান কোলিনা, ‘সাধারণত কোনো টুর্নামেন্ট চলাকালে আমরা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাই না। তবে সম্প্রতি আমরা ব্যাখ্যা করেছি, যখন আক্রমণভাগের কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া ও গোল বাঁচানোর সুযোগ বাধাগ্রস্ত করেন, তখন ম্যাচ কর্মকর্তারা কীভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করবেন। একইসঙ্গে আরেকটি বিতর্কিত বিষয়ও পরিষ্কার করতে চেয়েছি।’

এরপরই ফিফার অভিজ্ঞ এই রেফারিং কর্মকর্তা আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারি লেটেক্সিয়ের সিদ্ধান্ত ও ভিএআর নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রতিটি গোল হওয়ার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) আক্রমণভাগের বল দখলের পুরো ধাপ (অ্যাটাকিং পজেশন ফেজ– এপিপি) পরীক্ষা করে। যদি গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হয়, তাহলে ভিএআর রেফারিকে মাঠের পাশে গিয়ে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত (অন-ফিল্ড রিভিউ) নেওয়ার সুপারিশ করে। এক্ষেত্রে ঘটনাটি গোল থেকে কত দূরে ঘটেছে কিংবা ঘটনার পর কত সময় পেরিয়েছে– এমন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।’

আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তের কথা এবার সরাসরি উল্লেখ করলেন পিয়েরলুইজি কোলিনা, ‘এমন একটি উদাহরণ ছিল আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ। সেখানে মিশরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারোয়ান আত্তিয়া স্পষ্টভাবেই আর্জেন্টিনার ৬ নম্বর খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। আমাদের মতে ফাউল মানেই ফাউল। সেটি যতই “স্পষ্ট” বা “কম স্পষ্ট” মনে হোক না কেন, যদি রেফারি মাঠে ঘটনাটি দেখতে না পান, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। আবার গোলের আগের কোনো ফাউলও শনাক্ত না হলে সে বিষয়েও রেফারিকে জানিয়ে দেয় ভিএআর।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রাখা ফাউল। কিন্তু কোনো ডিফেন্ডার যদি আগে বল স্পর্শ করেন এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ঘটে, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। এই উদাহরণও একই ম্যাচের শেষদিকে দেখা গেছে। সেখানে রেফারি এবং ভিএআর উভয়েই মিশরের ১০ নম্বর তারকা মোহামেদ সালাহ এবং আর্জেন্টিনার ১০ (মূলত ৯) নম্বর হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া সংস্পর্শকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। অবশ্যই কিছু সিদ্ধান্তে সবসময়ই ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের একটি উপাদান থাকবে। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে এই নীতির প্রয়োগে আমরা সন্তুষ্ট।’