Dhaka ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুর সাফারি পার্কের লেমুর পাচার: আম্বানি পরিবারের সংশ্লিষ্টতা মেলেনি তদন্তে

জেলা প্রতিনিধি
9 / 100 SEO Score

 

ভারতে পাচার দুই লেমুর, ডিএনএ প্রমাণের অভাবে দেশে ফেরানো অনিশ্চিত

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া তিনটি বিপন্ন প্রজাতির লেমুরের মধ্যে দুটি ভারতে পাচার হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে, লেমুর দুটি ভারতের গুজরাটের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভারতের মুম্বাইয়ের শিল্পপতি আম্বানি পরিবারের কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আট সদস্যের একটি চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পার্কে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চুরি হওয়া তিনটি লেমুরের একটি ঢাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। বাকি দুটি চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লেমুরটি সাফারি পার্কে ফেরত আনার পর কয়েক মাস আগে মারা যায়।

ডিএনএ প্রমাণের অভাবে ফেরত আনা অনিশ্চিত

সিআইডি ভারতের গুজরাটে পাচার হওয়া লেমুর দুটির সন্ধান পেলেও দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ, লেমুর দুটির আগের কোনো ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। এদিকে প্রাণী দুটির রক্তসম্পর্কীয় অন্য একটি লেমুরের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণী দুটির বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ হবে।

এ ঘটনায় তদন্তে আম্বানি পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। তাই পরিবারটিকে জড়িয়ে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরি ও পাচার ঠেকাতে দেশের সাফারি পার্ক, চিড়িয়াখানা ও জাতীয় উদ্যানে আধুনিক সিসিটিভি নজরদারি, দক্ষ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং বিপন্ন প্রাণীর শরীরে মাইক্রোচিপ বা শনাক্তকরণ ট্যাগ সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

19 − nineteen =

About Author Information

গাজীপুর সাফারি পার্কের লেমুর পাচার: আম্বানি পরিবারের সংশ্লিষ্টতা মেলেনি তদন্তে

Update Time : ০৭:৪১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
9 / 100 SEO Score

 

ভারতে পাচার দুই লেমুর, ডিএনএ প্রমাণের অভাবে দেশে ফেরানো অনিশ্চিত

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া তিনটি বিপন্ন প্রজাতির লেমুরের মধ্যে দুটি ভারতে পাচার হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে, লেমুর দুটি ভারতের গুজরাটের একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভারতের মুম্বাইয়ের শিল্পপতি আম্বানি পরিবারের কোনো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে পার্ক থেকে তিনটি লেমুর চুরি হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আট সদস্যের একটি চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পার্কে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চুরি হওয়া তিনটি লেমুরের একটি ঢাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। বাকি দুটি চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লেমুরটি সাফারি পার্কে ফেরত আনার পর কয়েক মাস আগে মারা যায়।

ডিএনএ প্রমাণের অভাবে ফেরত আনা অনিশ্চিত

সিআইডি ভারতের গুজরাটে পাচার হওয়া লেমুর দুটির সন্ধান পেলেও দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ, লেমুর দুটির আগের কোনো ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। এদিকে প্রাণী দুটির রক্তসম্পর্কীয় অন্য একটি লেমুরের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণী দুটির বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ হবে।

এ ঘটনায় তদন্তে আম্বানি পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। তাই পরিবারটিকে জড়িয়ে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরি ও পাচার ঠেকাতে দেশের সাফারি পার্ক, চিড়িয়াখানা ও জাতীয় উদ্যানে আধুনিক সিসিটিভি নজরদারি, দক্ষ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং বিপন্ন প্রাণীর শরীরে মাইক্রোচিপ বা শনাক্তকরণ ট্যাগ সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।