Dhaka ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে উধাও ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক দরপতনে এক দিনেই প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা এবং বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় দরপতন দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক দরপতনে এক দিনেই প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি (২.৫ ট্রিলিয়ন) ডলারের বাজারমূল্য উধাও হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতনির্ভর নাসডাকের শেয়ারসূচক বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এতে মাত্র এক দিনেই নাসডাকের আনুমানিক ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (আড়াই লাখ কোটি) ডলার বাজারমূল্য উধাও হয়েছে যায়। একই সঙ্গে ওয়ালস্ট্রিটের অন্য প্রধান শেয়ারসূচকগুলোও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া দরপতনের এই ধস শুক্রবার এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই ধসের কারণে অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলার মতো শীর্ষ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (যাদের ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ বলা হয়) সম্মিলিতভাবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন হারিয়েছে। এর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ার দর ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ার যথাক্রমে ৮ শতাংশ ও প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে, যার ফলে তার কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমে গেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের এই ধস শুক্রবার এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। জাপানের নিক্কেই শেয়ারসূচক ৬ শতাংশ কমে দিন শেষ করে। এছাড়া মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া ও টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারেও বড় দরপতন দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের সূচক ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়া কসপির সূচকও এক দিনেই ৬ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, ইউরোপের বাজারগুলোও শুক্রবার দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করে। তবে সেখানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম হওয়ায় ধস তুলনামূলকভাবে কম ছিল। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ এর সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জার্মানির ড্যাক্সের সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

এজ বেল-এর বাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ এ বিষয়ে বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যে বিশাল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা কবে নাগাদ বা আদৌ কোনো মুনাফা আনবে কিনা, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎকণ্ঠা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্রেটদের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় তারা ডাটা সেন্টার গড়ে তোলার গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং এই খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের নতুন উপায় খুঁজতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, এআই-এর পুরো বিষয়টিই ছিল দ্রুত অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল; এখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এই অগ্রগতির গতি কমে যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × two =

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে উধাও ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

Update Time : ০৪:২৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক দরপতনে এক দিনেই প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা এবং বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বড় দরপতন দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক দরপতনে এক দিনেই প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি (২.৫ ট্রিলিয়ন) ডলারের বাজারমূল্য উধাও হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতনির্ভর নাসডাকের শেয়ারসূচক বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এতে মাত্র এক দিনেই নাসডাকের আনুমানিক ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন (আড়াই লাখ কোটি) ডলার বাজারমূল্য উধাও হয়েছে যায়। একই সঙ্গে ওয়ালস্ট্রিটের অন্য প্রধান শেয়ারসূচকগুলোও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া দরপতনের এই ধস শুক্রবার এশিয়া ও ইউরোপের শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই ধসের কারণে অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলার মতো শীর্ষ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (যাদের ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ বলা হয়) সম্মিলিতভাবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধন হারিয়েছে। এর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ার দর ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ার যথাক্রমে ৮ শতাংশ ও প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে, যার ফলে তার কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমে গেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের এই ধস শুক্রবার এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। জাপানের নিক্কেই শেয়ারসূচক ৬ শতাংশ কমে দিন শেষ করে। এছাড়া মেমোরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া ও টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারেও বড় দরপতন দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের সূচক ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়া কসপির সূচকও এক দিনেই ৬ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, ইউরোপের বাজারগুলোও শুক্রবার দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করে। তবে সেখানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম হওয়ায় ধস তুলনামূলকভাবে কম ছিল। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ এর সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জার্মানির ড্যাক্সের সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

এজ বেল-এর বাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ এ বিষয়ে বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যে বিশাল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা কবে নাগাদ বা আদৌ কোনো মুনাফা আনবে কিনা, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎকণ্ঠা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্রেটদের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় তারা ডাটা সেন্টার গড়ে তোলার গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং এই খাতটিকে নিয়ন্ত্রণের নতুন উপায় খুঁজতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, এআই-এর পুরো বিষয়টিই ছিল দ্রুত অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল; এখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, এই অগ্রগতির গতি কমে যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি