Dhaka ০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীতের আগেই ত্বকের যত্নে সতর্ক হোন

8 / 100 SEO Score

 

শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই ত্বকের যত্নে বাড়তি সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক হারাতে শুরু করে স্বাভাবিক আর্দ্রতা। ফলে দেখা দেয় শুষ্কতা, রুক্ষতা ও ঠোঁট ফাটার মতো সমস্যা। তবে ত্বকের সুরক্ষায় একগাদা প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।

শীত হোক বা গ্রীষ্ম, বছরজুড়েই মূলত চারটি প্রাথমিক ধাপ, অর্থাৎ ‘সি-টি-এম-এল’ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট।ত্বকের টানই জানান দিচ্ছে শীত আসছে। সিরাম, অ্যাম্পুল, পেট্রোলিয়াম জেলি, ভারী ময়েশ্চারাইজার, জলপাই তেল বা বাদাম তেল ব্যবহার করে যেভাবে হোক রুক্ষতা থেকে ত্বককে বাঁচাতে হবে।

তবে একগাদা পণ্য নয়, আজকাল রূপচর্চার দুনিয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে ‘স্কিনিমালিজম’ বা পরিমিত রূপচর্চা। অতিরিক্ত উপকরণের ভিড়ে না গিয়ে খুব কম সামগ্রীতে ত্বকের মৌলিক চাহিদা মেটানোই এ ধারার মূল ধারণা।

কিন্তু কনকনে শীতে এত কম পণ্যে ত্বকের যত্ন নেওয়া কি আদৌ সম্ভব?

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি জানান, স্কিনিমালিজম কোনো সাময়িক ট্রেন্ড নয়; এটি ত্বকের একটি সর্বজনীন ও স্বাস্থ্যকর প্রস্তুতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চটকদার প্রচারণায় অনেকেই আজকাল ৮ থেকে ১০ ধাপের জটিল রূপচর্চায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ সুস্থ ও সতেজ ত্বকের জন্য এত উপকরণের দরকার নেই।

শীত হোক বা গ্রীষ্ম, বছরজুড়েই মূলত চারটি প্রাথমিক ধাপ, অর্থাৎ ‘সি-টি-এম-এল’ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট।

সি-টি-এম-এল পদ্ধতির ধাপগুলো হলো—

সি (ক্লিনজিং বা পরিষ্কার করা): সুস্থ ত্বকের প্রথম শর্তই হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। শীতে ত্বকে ধুলাবালু ও মরা চামড়া জমে বেশি। এ সময় ফোম ক্লিনজারের চেয়ে তেলভিত্তিক ক্লিনজার ভালো কাজ করে। সম্ভব হলে ‘ডাবল ক্লিনজিং’ বেছে নেওয়া যায়। প্রথমে তেলভিত্তিক ক্লিনজার দিয়ে মালিশ করে ময়লা আলগা করে নিয়ে পরে জেল বা পানিভিত্তিক ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

টি (টোনিং): মুখ ধোয়ার পরপরই সরাসরি ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত নয়। পরিষ্কারের সময় মৃদু ঘষাঘষিতে ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করতে, ত্বককে কোমল ও টান টান রাখতে প্রয়োজন টোনার। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় পানিভিত্তিক টোনারই সবচেয়ে মানানসই।

এম (ময়েশ্চারাইজিং): টোনার ব্যবহারের পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার দিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে।

এল (লিপ কেয়ার বা ঠোঁটের যত্ন): মুখের মতো ঠোঁটের পাতলা ত্বকও সরাসরি বাইরের শুষ্ক আবহাওয়ার সংস্পর্শে থাকে। ফলে শীতে ঠোঁট দ্রুত আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং ফেটে যায়। তাই নিয়মিত লিপবাম বা লিপজেল ব্যবহার স্কিনিমালিজমের এক আবশ্যকীয় অংশ।

ত্বকের যত্নে অনেক পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে স্কিনিমালিজমেও ত্বকের নিজস্ব ধরন অনুযায়ী সঠিক উপকরণ বাছাই করা জরুরি।

তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল ত্বক: তৈলাক্ত ত্বকে ভারী বা তেলযুক্ত ক্রিম রোমকূপ বন্ধ করে ব্রণের উপদ্রব বাড়াতে পারে। তাই হালকা পানিভিত্তিক জেল বেছে নেওয়া ভালো। ত্বকে ব্রণ বা মেছতা থাকলে সানস্ক্রিন লাগানো অত্যাবশ্যক। তেলবিহীন অথবা পাউডার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা তাই সবচেয়ে নিরাপদ।

শুষ্ক ত্বক: শীতে শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এ ধরনের ত্বকেরই তাই শীতকালে বেশি যত্নের প্রয়োজন পড়ে। শুষ্ক ত্বকের সুরক্ষায় পুষ্টিকর উপাদানসমৃদ্ধ তেলভিত্তিক বা ক্রিমভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

মিশ্র ত্বক: মিশ্র ত্বকে খুব বেশি ভারী প্রসাধনী এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। হালকা, পানিপ্রধান ফর্মুলার ময়েশ্চারাইজার দিয়ে তেল ও আর্দ্রতার সমতা রক্ষা করলেই মিশ্র ত্বক থাকে সতেজ ও লাবণ্যময়।

শীতের মিষ্টি রোদে অনেকেই সানস্ক্রিন মাখার কথা ভুলে যান। তবে সানস্ক্রিন কোনো ঋতুভিত্তিক প্রসাধনী নয়। বাইরে কড়া রোদ না থাকলেও ত্বকে রোদ ও আলোর প্রভাব পড়ে।

এমনকি দীর্ঘক্ষণ রান্নাঘরের চুলার তাপে থাকলেও ত্বকে মেছতা ও কালচে ছোপ পড়তে পারে। তাই ভৌগোলিক অবস্থান ও রোদের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে শীতের দিনেও এসপিএফ ৩০+ থেকে ৫০+ মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।

পুরোদমে শীত নামার পর তড়িঘড়ি না করে শীতের আগাম আভাস পেলেই যত্ন শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ, বলছিলেন শারমিন কচি। আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক হওয়ার আগে থেকেই যদি নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার, টোনিং ও আর্দ্রতা বজায় রাখা যায়, তবে ত্বকের গভীরে প্রয়োজনীয় জলীয় কণা সঞ্চিত থাকে। এতে তীব্র শীতেও ত্বক রুক্ষ বা খসখসে হয়ে পড়ে না।

অহেতুক প্রসাধনীর জটলায় ত্বককে ক্লান্ত না করে সঠিক নিয়মে অল্প কিছু উপকরণের নিয়মিত ব্যবহারে শীতেও ত্বক থাকবে স্বাভাবিক, কোমল ও লাবণ্যময়।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

6 − 3 =

About Author Information

শীতের আগেই ত্বকের যত্নে সতর্ক হোন

Update Time : ০৩:৩১:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

শীত পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই ত্বকের যত্নে বাড়তি সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক হারাতে শুরু করে স্বাভাবিক আর্দ্রতা। ফলে দেখা দেয় শুষ্কতা, রুক্ষতা ও ঠোঁট ফাটার মতো সমস্যা। তবে ত্বকের সুরক্ষায় একগাদা প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।

শীত হোক বা গ্রীষ্ম, বছরজুড়েই মূলত চারটি প্রাথমিক ধাপ, অর্থাৎ ‘সি-টি-এম-এল’ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট।ত্বকের টানই জানান দিচ্ছে শীত আসছে। সিরাম, অ্যাম্পুল, পেট্রোলিয়াম জেলি, ভারী ময়েশ্চারাইজার, জলপাই তেল বা বাদাম তেল ব্যবহার করে যেভাবে হোক রুক্ষতা থেকে ত্বককে বাঁচাতে হবে।

তবে একগাদা পণ্য নয়, আজকাল রূপচর্চার দুনিয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে ‘স্কিনিমালিজম’ বা পরিমিত রূপচর্চা। অতিরিক্ত উপকরণের ভিড়ে না গিয়ে খুব কম সামগ্রীতে ত্বকের মৌলিক চাহিদা মেটানোই এ ধারার মূল ধারণা।

কিন্তু কনকনে শীতে এত কম পণ্যে ত্বকের যত্ন নেওয়া কি আদৌ সম্ভব?

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি জানান, স্কিনিমালিজম কোনো সাময়িক ট্রেন্ড নয়; এটি ত্বকের একটি সর্বজনীন ও স্বাস্থ্যকর প্রস্তুতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চটকদার প্রচারণায় অনেকেই আজকাল ৮ থেকে ১০ ধাপের জটিল রূপচর্চায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ সুস্থ ও সতেজ ত্বকের জন্য এত উপকরণের দরকার নেই।

শীত হোক বা গ্রীষ্ম, বছরজুড়েই মূলত চারটি প্রাথমিক ধাপ, অর্থাৎ ‘সি-টি-এম-এল’ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট।

সি-টি-এম-এল পদ্ধতির ধাপগুলো হলো—

সি (ক্লিনজিং বা পরিষ্কার করা): সুস্থ ত্বকের প্রথম শর্তই হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। শীতে ত্বকে ধুলাবালু ও মরা চামড়া জমে বেশি। এ সময় ফোম ক্লিনজারের চেয়ে তেলভিত্তিক ক্লিনজার ভালো কাজ করে। সম্ভব হলে ‘ডাবল ক্লিনজিং’ বেছে নেওয়া যায়। প্রথমে তেলভিত্তিক ক্লিনজার দিয়ে মালিশ করে ময়লা আলগা করে নিয়ে পরে জেল বা পানিভিত্তিক ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

টি (টোনিং): মুখ ধোয়ার পরপরই সরাসরি ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত নয়। পরিষ্কারের সময় মৃদু ঘষাঘষিতে ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করতে, ত্বককে কোমল ও টান টান রাখতে প্রয়োজন টোনার। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় পানিভিত্তিক টোনারই সবচেয়ে মানানসই।

এম (ময়েশ্চারাইজিং): টোনার ব্যবহারের পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার দিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে।

এল (লিপ কেয়ার বা ঠোঁটের যত্ন): মুখের মতো ঠোঁটের পাতলা ত্বকও সরাসরি বাইরের শুষ্ক আবহাওয়ার সংস্পর্শে থাকে। ফলে শীতে ঠোঁট দ্রুত আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং ফেটে যায়। তাই নিয়মিত লিপবাম বা লিপজেল ব্যবহার স্কিনিমালিজমের এক আবশ্যকীয় অংশ।

ত্বকের যত্নে অনেক পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে স্কিনিমালিজমেও ত্বকের নিজস্ব ধরন অনুযায়ী সঠিক উপকরণ বাছাই করা জরুরি।

তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল ত্বক: তৈলাক্ত ত্বকে ভারী বা তেলযুক্ত ক্রিম রোমকূপ বন্ধ করে ব্রণের উপদ্রব বাড়াতে পারে। তাই হালকা পানিভিত্তিক জেল বেছে নেওয়া ভালো। ত্বকে ব্রণ বা মেছতা থাকলে সানস্ক্রিন লাগানো অত্যাবশ্যক। তেলবিহীন অথবা পাউডার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা তাই সবচেয়ে নিরাপদ।

শুষ্ক ত্বক: শীতে শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এ ধরনের ত্বকেরই তাই শীতকালে বেশি যত্নের প্রয়োজন পড়ে। শুষ্ক ত্বকের সুরক্ষায় পুষ্টিকর উপাদানসমৃদ্ধ তেলভিত্তিক বা ক্রিমভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

মিশ্র ত্বক: মিশ্র ত্বকে খুব বেশি ভারী প্রসাধনী এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। হালকা, পানিপ্রধান ফর্মুলার ময়েশ্চারাইজার দিয়ে তেল ও আর্দ্রতার সমতা রক্ষা করলেই মিশ্র ত্বক থাকে সতেজ ও লাবণ্যময়।

শীতের মিষ্টি রোদে অনেকেই সানস্ক্রিন মাখার কথা ভুলে যান। তবে সানস্ক্রিন কোনো ঋতুভিত্তিক প্রসাধনী নয়। বাইরে কড়া রোদ না থাকলেও ত্বকে রোদ ও আলোর প্রভাব পড়ে।

এমনকি দীর্ঘক্ষণ রান্নাঘরের চুলার তাপে থাকলেও ত্বকে মেছতা ও কালচে ছোপ পড়তে পারে। তাই ভৌগোলিক অবস্থান ও রোদের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে শীতের দিনেও এসপিএফ ৩০+ থেকে ৫০+ মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।

পুরোদমে শীত নামার পর তড়িঘড়ি না করে শীতের আগাম আভাস পেলেই যত্ন শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ, বলছিলেন শারমিন কচি। আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক হওয়ার আগে থেকেই যদি নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার, টোনিং ও আর্দ্রতা বজায় রাখা যায়, তবে ত্বকের গভীরে প্রয়োজনীয় জলীয় কণা সঞ্চিত থাকে। এতে তীব্র শীতেও ত্বক রুক্ষ বা খসখসে হয়ে পড়ে না।

অহেতুক প্রসাধনীর জটলায় ত্বককে ক্লান্ত না করে সঠিক নিয়মে অল্প কিছু উপকরণের নিয়মিত ব্যবহারে শীতেও ত্বক থাকবে স্বাভাবিক, কোমল ও লাবণ্যময়।