Dhaka ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাটি একটি পদ্ধতিগত অপরাধ। এটি ছিল ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড সুপিরিয়র রেসপনসিবলিটি রয়েছে। একদম পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কারণ যখন ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করছিলেন, ঠিক তখনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এই সংগঠনটিকে একেবারে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য নানা পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এমন হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা। প্রতিবেদনটি এখন পর্যালোচনা বা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। এজন্য হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।

আসামিদের তালিকায় কারা রয়েছেন জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিবেদনটি খসড়া। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত আসামিদের তালিকা আমরা প্রকাশ করতে পারছি না। তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান, বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনেন বিরুদ্ধে খসড়া প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।

তিনি আরও বলেন, খসড়া প্রতিবেদন হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। হেফাজত ইসলামের নেতারা এ ঘটনার জ্বলন্ত বা প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তারা এ বিষয়ে আরও বেশি ওয়াকিবহাল রয়েছেন। আমাদের তদন্তের ওপর তাদের আর কোনো বক্তব্য থাকলে নিশ্চয়ই বলবেন। তবে কে আসামি হবেন, আর কে হবেন না; তা ফরমাল চার্জ দাখিলের পরই সবাই জানতে পারবেন।

নিহতদের তালিকা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা এ পর্যন্ত নিহত প্রায় ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের এখনও সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের তালিকা ৬১ জনের।

এদিন সকালে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে আল্লামা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ শীর্ষ নেতারা ছিলেন।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ

Update Time : ০৭:৫৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাটি একটি পদ্ধতিগত অপরাধ। এটি ছিল ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড সুপিরিয়র রেসপনসিবলিটি রয়েছে। একদম পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। কারণ যখন ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করছিলেন, ঠিক তখনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এই সংগঠনটিকে একেবারে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য নানা পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এমন হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা। প্রতিবেদনটি এখন পর্যালোচনা বা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। এজন্য হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।

আসামিদের তালিকায় কারা রয়েছেন জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই প্রতিবেদনটি খসড়া। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগ পর্যন্ত আসামিদের তালিকা আমরা প্রকাশ করতে পারছি না। তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান, বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনেন বিরুদ্ধে খসড়া প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।

তিনি আরও বলেন, খসড়া প্রতিবেদন হওয়ায় যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। হেফাজত ইসলামের নেতারা এ ঘটনার জ্বলন্ত বা প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তারা এ বিষয়ে আরও বেশি ওয়াকিবহাল রয়েছেন। আমাদের তদন্তের ওপর তাদের আর কোনো বক্তব্য থাকলে নিশ্চয়ই বলবেন। তবে কে আসামি হবেন, আর কে হবেন না; তা ফরমাল চার্জ দাখিলের পরই সবাই জানতে পারবেন।

নিহতদের তালিকা প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা এ পর্যন্ত নিহত প্রায় ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের এখনও সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের তালিকা ৬১ জনের।

এদিন সকালে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসেন একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে আল্লামা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ শীর্ষ নেতারা ছিলেন।