Dhaka ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৭৫ জঙ্গি নিহত, আইএসের ঘাঁটিতে বড় অভিযানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

মার্কিন ও নাইজেরীয় বাহিনীর যৌথ বিমান ও স্থল অভিযানে গত ৩ দিনে নাইজেরিয়ায় আন্তর্জাতিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কমপক্ষে ১৭৫ জন সদস্য নিহত হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাতে জানা গেছে এ তথ্য।

নাইজেরীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা গত কাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “গত ১৬ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩ দিনে মার্কিন-নাইজেরীয় যৌথ বাহিনী ১৭৫ জন আইএস জঙ্গিকে নির্মূল করেছে।”

আইএস সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি নাইজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকটি চেকপয়েন্ট, অস্ত্রাগার, লজিস্টিক কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

২০১৮-’১৯ সালের দিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আফ্রিকায় ঘাঁটি গাড়া শুরু করে আইএস। এই মহাদেশে ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউিএপি) নামে কাজ করছে গোষ্ঠীটি। সংঘাত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম ৩ মাসে আইএসের বৈশ্বিক তৎপরতার ৮৬ শতাংশই ঘটেছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

নাইজেরিয়া আইএস কিংবা আইএসডব্লিউএপি-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এলাকা। পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম এই দেশটিতে অবশ্য গত কয়েক বছর ধরে অপর আন্তর্জাতিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দা এবং স্থানীয় জঙ্গীগোষ্ঠী বোকো হারামপন্থি সন্ত্রাসীরাও সক্রিয় আছে।

এই তিন গোষ্ঠীর সদস্যরা নাইজেরিয়াজুড়ে হত্যা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, লুটপাট, ডাকাতি-সহ সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই অপরাধীদের নির্মূল করতে বহুবার চেষ্টার পরও ব্যর্থ হয়েছে নাইজেরিয়ার সরকার।

চলতি বছরে এ ব্যাপারে নাইজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চাইলে ট্রাম্প তাতে রাজি হন এবং গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে প্রায় ১০০ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে পাঠান। এই কর্মকর্তাদের প্রধান কাজ হলো নাইজেরীয় সেনাবাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান। তবে বড় অভিযানে তারা নাইজেরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে অংশও নেন।

গত ১৬ মে মার্কিন-নাইজেরীয় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন আবু বিলাল আল-মিনুকি, যিনি আইএসের বৈশ্বিক পর্যায়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বা সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন।

তার পর ১৭ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত যারা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা আইএসডব্লিউএপি-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা আবদ-আল ওয়াহাব, আবু মুসা আল-মাঙ্গাউই এবং আল-মিনুকির ঘনিষ্ঠ সহকারী আবু আল মুথান্না আল মুহাজির।

মঙ্গলবারের বিবৃতেতে নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামালিয়া উবা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ নির্মূলের আগ পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র : রয়টার্স

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

১৭৫ জঙ্গি নিহত, আইএসের ঘাঁটিতে বড় অভিযানে

Update Time : ০৫:৫৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

মার্কিন ও নাইজেরীয় বাহিনীর যৌথ বিমান ও স্থল অভিযানে গত ৩ দিনে নাইজেরিয়ায় আন্তর্জাতিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কমপক্ষে ১৭৫ জন সদস্য নিহত হয়েছে। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বরাতে জানা গেছে এ তথ্য।

নাইজেরীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা গত কাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “গত ১৬ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩ দিনে মার্কিন-নাইজেরীয় যৌথ বাহিনী ১৭৫ জন আইএস জঙ্গিকে নির্মূল করেছে।”

আইএস সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি নাইজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকটি চেকপয়েন্ট, অস্ত্রাগার, লজিস্টিক কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

২০১৮-’১৯ সালের দিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আফ্রিকায় ঘাঁটি গাড়া শুরু করে আইএস। এই মহাদেশে ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউিএপি) নামে কাজ করছে গোষ্ঠীটি। সংঘাত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম ৩ মাসে আইএসের বৈশ্বিক তৎপরতার ৮৬ শতাংশই ঘটেছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

নাইজেরিয়া আইএস কিংবা আইএসডব্লিউএপি-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এলাকা। পশ্চিম আফ্রিকার বৃহত্তম এই দেশটিতে অবশ্য গত কয়েক বছর ধরে অপর আন্তর্জাতিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দা এবং স্থানীয় জঙ্গীগোষ্ঠী বোকো হারামপন্থি সন্ত্রাসীরাও সক্রিয় আছে।

এই তিন গোষ্ঠীর সদস্যরা নাইজেরিয়াজুড়ে হত্যা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, লুটপাট, ডাকাতি-সহ সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই অপরাধীদের নির্মূল করতে বহুবার চেষ্টার পরও ব্যর্থ হয়েছে নাইজেরিয়ার সরকার।

চলতি বছরে এ ব্যাপারে নাইজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চাইলে ট্রাম্প তাতে রাজি হন এবং গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে প্রায় ১০০ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে পাঠান। এই কর্মকর্তাদের প্রধান কাজ হলো নাইজেরীয় সেনাবাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান। তবে বড় অভিযানে তারা নাইজেরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে অংশও নেন।

গত ১৬ মে মার্কিন-নাইজেরীয় যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন আবু বিলাল আল-মিনুকি, যিনি আইএসের বৈশ্বিক পর্যায়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বা সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন।

তার পর ১৭ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত যারা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখা আইএসডব্লিউএপি-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা আবদ-আল ওয়াহাব, আবু মুসা আল-মাঙ্গাউই এবং আল-মিনুকির ঘনিষ্ঠ সহকারী আবু আল মুথান্না আল মুহাজির।

মঙ্গলবারের বিবৃতেতে নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামালিয়া উবা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ নির্মূলের আগ পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সূত্র : রয়টার্স