Dhaka ০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজালালে বিমানে ৫ ঘণ্টা বন্দি ১৮২ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কারিগরি ত্রুটির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কলম্বোগামী একটি ফ্লাইটের ১৮২ যাত্রী। উড্ডয়নে দীর্ঘ বিলম্ব হলেও তাঁদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বদ্ধ বিমানের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় অসুস্থতা, খাবারের সংকট ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন যাত্রী।

১১ জুলাই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন ঢাকা থেকে কলম্বোগামী ফিটস এয়ারের (৮ডি ০৯১২) ফ্লাইটের যাত্রীরা।ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল রাত ২টা ১৫ মিনিটে, কিন্তু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা ছাড়ে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। এই সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় ১৮২ জন যাত্রীকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল বদ্ধ উড়োজাহাজে।

দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এই যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, এতক্ষণ এক জায়গায় থাকায় অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সময়ে তাঁদের পর্যাপ্ত খাবার বা প্রয়োজনীয় কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। করা হয়েছে দুর্ব্যবহার।

ফ্লাইটটি ছাড়তে দেরি হওয়ার কথা জানালেও শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রী ভোগান্তির কোনো অভিযোগ তারা পায়নি। এদিকে ফিটস এয়ারের একজন মুখপাত্র দেরির জন্য নিজেদের দায় অস্বীকারের পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কোনো ফ্লাইটে ত্রুটি দেখা দিলে মেরামতের জন্য যাত্রীদের নামিয়ে আনতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে দেরি বেশি হলে সাধারণত যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সাধারণত তিন ঘণ্টার বেশি এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চার ঘণ্টার বেশি যাত্রীদের টারমাকে আটকে রাখা যায় না।

যাত্রীর বর্ণনায় দুঃসহ অভিজ্ঞতা
ফিটস এয়ারের ফ্লাইটটিতে যাত্রীরা বলেন, চেক-ইন কাউন্টার থেকে শুরু করে বিমানে ওঠা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল চরম বিশৃঙ্খলতায় ভরা। এয়ারলাইনসের কর্মীদের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত অপেশাদার।

ফ্লাইটে ওঠার পরপরই জানানো হয় কারিগরি ত্রুটি আছে। কিন্তু সমস্যা দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই জিম্মি করে রাখা হয়।সকাল সাড়ে সাতটার আগে কোনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।যাত্রীরা বলেন, দীর্ঘ সময় খাবারহীন অবস্থায় শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম সংকটে পড়েছিলেন।যাত্রীদের অনেককেই গন্তবে পৌছানোর পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ফিটস এয়ারের ৮ডি ৯১১/৯১২ ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট দেরিতে রাত ২টায় ঢাকায় পৌঁছায়। এটির রাত ১টা ১৫ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল। রাত ২টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইটটির কলম্বো রওনা হওয়ার কথা ছিল।

নির্বাহী পরিচালক জানান, উড্ডয়নের ঠিক আগমুহূর্তে প্রকৌশলীরা বিমানটি পরীক্ষা করেন। তখন একটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। তাঁরা দেখেন, বিমানের হাইড্রোলিক ফ্লুইড লেভেল কমে গেছে। ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত প্রকৌশলীরা বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুপযুক্ত ঘোষণা করেন। এই সমস্যার কারণে উড্ডয়নে বিলম্ব ঘটে।

যাত্রীরা রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিমানের ভেতরেই অবস্থান করেন জানিয়ে রাগীব সামাদ বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরে থাকতে হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে তাঁরা সকাল ৬টার দিকে হালকা নাশতার ব্যবস্থা করেছিলেন।

যাত্রীদের সঙ্গে ফিটস এয়ারের কর্মীদের অপেশাদার আচরণ বা দুর্ব্যবহার নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানান শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

শাহজালালে বিমানে ৫ ঘণ্টা বন্দি ১৮২ যাত্রী

Update Time : ০৩:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কারিগরি ত্রুটির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কলম্বোগামী একটি ফ্লাইটের ১৮২ যাত্রী। উড্ডয়নে দীর্ঘ বিলম্ব হলেও তাঁদের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বদ্ধ বিমানের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় অসুস্থতা, খাবারের সংকট ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন যাত্রী।

১১ জুলাই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন ঢাকা থেকে কলম্বোগামী ফিটস এয়ারের (৮ডি ০৯১২) ফ্লাইটের যাত্রীরা।ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল রাত ২টা ১৫ মিনিটে, কিন্তু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা ছাড়ে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। এই সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় ১৮২ জন যাত্রীকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল বদ্ধ উড়োজাহাজে।

দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এই যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, এতক্ষণ এক জায়গায় থাকায় অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সময়ে তাঁদের পর্যাপ্ত খাবার বা প্রয়োজনীয় কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। করা হয়েছে দুর্ব্যবহার।

ফ্লাইটটি ছাড়তে দেরি হওয়ার কথা জানালেও শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রী ভোগান্তির কোনো অভিযোগ তারা পায়নি। এদিকে ফিটস এয়ারের একজন মুখপাত্র দেরির জন্য নিজেদের দায় অস্বীকারের পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কোনো ফ্লাইটে ত্রুটি দেখা দিলে মেরামতের জন্য যাত্রীদের নামিয়ে আনতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে দেরি বেশি হলে সাধারণত যাত্রীদের নামিয়ে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সাধারণত তিন ঘণ্টার বেশি এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চার ঘণ্টার বেশি যাত্রীদের টারমাকে আটকে রাখা যায় না।

যাত্রীর বর্ণনায় দুঃসহ অভিজ্ঞতা
ফিটস এয়ারের ফ্লাইটটিতে যাত্রীরা বলেন, চেক-ইন কাউন্টার থেকে শুরু করে বিমানে ওঠা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল চরম বিশৃঙ্খলতায় ভরা। এয়ারলাইনসের কর্মীদের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত অপেশাদার।

ফ্লাইটে ওঠার পরপরই জানানো হয় কারিগরি ত্রুটি আছে। কিন্তু সমস্যা দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই জিম্মি করে রাখা হয়।সকাল সাড়ে সাতটার আগে কোনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।যাত্রীরা বলেন, দীর্ঘ সময় খাবারহীন অবস্থায় শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম সংকটে পড়েছিলেন।যাত্রীদের অনেককেই গন্তবে পৌছানোর পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ফিটস এয়ারের ৮ডি ৯১১/৯১২ ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট দেরিতে রাত ২টায় ঢাকায় পৌঁছায়। এটির রাত ১টা ১৫ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল। রাত ২টা ১৫ মিনিটে ফ্লাইটটির কলম্বো রওনা হওয়ার কথা ছিল।

নির্বাহী পরিচালক জানান, উড্ডয়নের ঠিক আগমুহূর্তে প্রকৌশলীরা বিমানটি পরীক্ষা করেন। তখন একটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। তাঁরা দেখেন, বিমানের হাইড্রোলিক ফ্লুইড লেভেল কমে গেছে। ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত প্রকৌশলীরা বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুপযুক্ত ঘোষণা করেন। এই সমস্যার কারণে উড্ডয়নে বিলম্ব ঘটে।

যাত্রীরা রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিমানের ভেতরেই অবস্থান করেন জানিয়ে রাগীব সামাদ বলেন, সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরে থাকতে হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে তাঁরা সকাল ৬টার দিকে হালকা নাশতার ব্যবস্থা করেছিলেন।

যাত্রীদের সঙ্গে ফিটস এয়ারের কর্মীদের অপেশাদার আচরণ বা দুর্ব্যবহার নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানান শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক।