Dhaka ০৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল সেনাসদস্য তিতাসের

জেলা প্রতিনিধি
8 / 100 SEO Score

 

মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাবহ পরিস্থিতি। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেজ তিতাস সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। ছোট ভাইও সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিতাস। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে গুলিতে প্রাণ হারানোয় সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

স্বামীকে হারিয়ে বারবার বিলাপ করছেন সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলছেন, ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইল না! আল্লাহ, আমি এখন কী করব!’

শোকে ভেঙে পড়েছেন তিতাসের মা রেখা বেগমও। তিনি জানান, বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তিতাস বলেছিলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ ছেলের মুখে বলা কথাগুলোই যে শেষ কথা হয়ে থাকবে, তা ভাবতেও পারেননি তিনি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন তিতাস। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।

পরে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিতাসের মরদেহ রামু সিএমএইচে রয়েছে। মরদেহ আনতে সেখানে গেছেন তার ছোট ভাই সেনাসদস্য আকরাম হোসেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে শুক্রবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিতাসের মরদেহ পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। এরপর বিকেল ৪টার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

17 + four =

About Author Information

সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ গেল সেনাসদস্য তিতাসের

Update Time : ০৩:১৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে টেকনাফে যৌথবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাবহ পরিস্থিতি। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেজ তিতাস সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। ছোট ভাইও সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন তিতাস। চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে গুলিতে প্রাণ হারানোয় সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

স্বামীকে হারিয়ে বারবার বিলাপ করছেন সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলছেন, ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইল না! আল্লাহ, আমি এখন কী করব!’

শোকে ভেঙে পড়েছেন তিতাসের মা রেখা বেগমও। তিনি জানান, বুধবার রাতে ছেলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তিতাস বলেছিলেন, ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ ছেলের মুখে বলা কথাগুলোই যে শেষ কথা হয়ে থাকবে, তা ভাবতেও পারেননি তিনি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন তিতাস। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।

পরে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিতাসের মরদেহ রামু সিএমএইচে রয়েছে। মরদেহ আনতে সেখানে গেছেন তার ছোট ভাই সেনাসদস্য আকরাম হোসেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারে শুক্রবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিতাসের মরদেহ পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। এরপর বিকেল ৪টার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।