Dhaka ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে যেভাবে

8 / 100 SEO Score

 

ঠোঁটের কালচে ভাব শুধুই বংশগত বা জিনগত কারণে ঘটে না আমাদের দৈনন্দিন অসচেতনতা ও অযত্নের ফলেই ঠোঁটের রং বেশি গাঢ় ও কালচে হয়ে যায়।

আমাদের মুখমণ্ডলের ত্বকের চেয়ে ঠোঁটের নিজস্ব পিগমেন্ট বা প্রাকৃতিক রং সাধারণত কিছুটা গাঢ় হয়ে থাকে। যেমন: ফরসা ত্বকে ঠোঁটের রং সামান্য গোলাপি বা হালকা বাদামি আভাযুক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু নানা প্রতিকূল কারণে যখন এই রং আরও গাঢ় ও ট্যানড হয়ে যায়, তখনই তা কালচে দেখায়। এর মূল কারণগুলো হলো—

শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে, যার ফলে ঠোঁটের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে কালচে ভাব স্পষ্ট হয়।

কপাল বা নাকের মতো ঠোঁটেও সরাসরি রোদ লাগে। রোদের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির প্রভাবে ঠোঁটের সংবেদনশীল ত্বকে কালচে ছোপ তৈরি হয়।

চামড়া টেনে তোলার বাজে অভ্যাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঠোঁট

নিয়মিত রাসায়নিক উপাদানে তৈরি লিপস্টিক, লিপলাইনার বা টিন্টের ব্যবহার ঠোঁটের ক্ষতি ডেকে আনে।

দাঁত বা আঙুল দিয়ে ঠোঁটের শুকনা চামড়া টেনে তোলার বাজে অভ্যাস অনেকেরই থাকে। এতে ঠোঁটের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কালচে দাগ বসে যায়।

নির্দিষ্ট কোনো প্রসাধনী বা উপাদানে অ্যালার্জির কারণেও ঠোঁট কালচে হতে পারে।

ঠোঁটের কালচে দাগ দ্রুত দূর করতে অনেকেই আজকাল কসমেটিক সার্জারির কথা ভাবেন। তবে সার্জারির মাধ্যমে পাওয়া পরিবর্তন খুবই ক্ষণস্থায়ী; বরং যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভেষজ ও প্রাকৃতিক যত্নই ঠোঁটের স্বাস্থ্য ও রং ফেরাতে সবচেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকা রাখে।

ঠোঁটের চামড়া খুব পাতলা হওয়ায় কোনোভাবেই জোরে ঘষাঘষি করা যাবে না

সহজ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই নিয়মিত ঠোঁটের যত্ন নেওয়া সম্ভব।

তাজা গোলাপের কয়েকটি পাপড়ি বেটে তার সঙ্গে সামান্য গ্লিসারিন মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। গোলাপ ফুলটি লাল বা গোলাপি রঙের হলে ভালো হয়। এটি ঠোঁটে মেখে রাখলে ঠোঁট নরম হয় এবং প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফিরে পেতে সাহায্য করে।

ঠোঁটের মরা চামড়া বা ডেড সেলস দূর করতে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হালকা স্ক্রাব করা জরুরি। আধা চা–চামচ মধুর সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে খুব আলতো হাতে ঠোঁটে ঘষে নিতে হবে। মধু না থাকলে চিনি ও কয়েক ফোঁটা তেলের (নারকেল বা জলপাই তেল) মিশ্রণও ব্যবহার করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ঠোঁটের চামড়া খুব পাতলা হওয়ায় কোনোভাবেই জোরে ঘষাঘষি করা যাবে না।

বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত এসপিএফ ৩০ প্লাসযুক্ত লিপ সানস্ক্রিন বা লিপবাম ব্যবহার করুন। এটি রোদের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ঠোঁটের ত্বক সুরক্ষিত রাখবে।

শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে

রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ধোয়ার পাশাপাশি ঠোঁটের মেকআপও ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ঠোঁটে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার, লিপবাম বা হাইড্রেটিং লিপ প্যাক লাগিয়ে ঘুমান।

যাঁদের ঠোঁটে কালচে ভাব বা পিগমেন্টেশন বেশি, তাঁরা একটানা ৮ থেকে ১০ দিন অথবা সপ্তাহে নিয়মিত দুই থেকে তিন দিন এই ঘরোয়া যত্ন চালিয়ে যেতে পারেন। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 + 4 =

About Author Information

ঠোঁটের কালচে ভাব দূর হবে যেভাবে

Update Time : ১০:৩৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ঠোঁটের কালচে ভাব শুধুই বংশগত বা জিনগত কারণে ঘটে না আমাদের দৈনন্দিন অসচেতনতা ও অযত্নের ফলেই ঠোঁটের রং বেশি গাঢ় ও কালচে হয়ে যায়।

আমাদের মুখমণ্ডলের ত্বকের চেয়ে ঠোঁটের নিজস্ব পিগমেন্ট বা প্রাকৃতিক রং সাধারণত কিছুটা গাঢ় হয়ে থাকে। যেমন: ফরসা ত্বকে ঠোঁটের রং সামান্য গোলাপি বা হালকা বাদামি আভাযুক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু নানা প্রতিকূল কারণে যখন এই রং আরও গাঢ় ও ট্যানড হয়ে যায়, তখনই তা কালচে দেখায়। এর মূল কারণগুলো হলো—

শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে, যার ফলে ঠোঁটের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে কালচে ভাব স্পষ্ট হয়।

কপাল বা নাকের মতো ঠোঁটেও সরাসরি রোদ লাগে। রোদের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির প্রভাবে ঠোঁটের সংবেদনশীল ত্বকে কালচে ছোপ তৈরি হয়।

চামড়া টেনে তোলার বাজে অভ্যাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঠোঁট

নিয়মিত রাসায়নিক উপাদানে তৈরি লিপস্টিক, লিপলাইনার বা টিন্টের ব্যবহার ঠোঁটের ক্ষতি ডেকে আনে।

দাঁত বা আঙুল দিয়ে ঠোঁটের শুকনা চামড়া টেনে তোলার বাজে অভ্যাস অনেকেরই থাকে। এতে ঠোঁটের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কালচে দাগ বসে যায়।

নির্দিষ্ট কোনো প্রসাধনী বা উপাদানে অ্যালার্জির কারণেও ঠোঁট কালচে হতে পারে।

ঠোঁটের কালচে দাগ দ্রুত দূর করতে অনেকেই আজকাল কসমেটিক সার্জারির কথা ভাবেন। তবে সার্জারির মাধ্যমে পাওয়া পরিবর্তন খুবই ক্ষণস্থায়ী; বরং যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভেষজ ও প্রাকৃতিক যত্নই ঠোঁটের স্বাস্থ্য ও রং ফেরাতে সবচেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকা রাখে।

ঠোঁটের চামড়া খুব পাতলা হওয়ায় কোনোভাবেই জোরে ঘষাঘষি করা যাবে না

সহজ কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই নিয়মিত ঠোঁটের যত্ন নেওয়া সম্ভব।

তাজা গোলাপের কয়েকটি পাপড়ি বেটে তার সঙ্গে সামান্য গ্লিসারিন মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। গোলাপ ফুলটি লাল বা গোলাপি রঙের হলে ভালো হয়। এটি ঠোঁটে মেখে রাখলে ঠোঁট নরম হয় এবং প্রাকৃতিক গোলাপি আভা ফিরে পেতে সাহায্য করে।

ঠোঁটের মরা চামড়া বা ডেড সেলস দূর করতে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হালকা স্ক্রাব করা জরুরি। আধা চা–চামচ মধুর সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে খুব আলতো হাতে ঠোঁটে ঘষে নিতে হবে। মধু না থাকলে চিনি ও কয়েক ফোঁটা তেলের (নারকেল বা জলপাই তেল) মিশ্রণও ব্যবহার করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ঠোঁটের চামড়া খুব পাতলা হওয়ায় কোনোভাবেই জোরে ঘষাঘষি করা যাবে না।

বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত এসপিএফ ৩০ প্লাসযুক্ত লিপ সানস্ক্রিন বা লিপবাম ব্যবহার করুন। এটি রোদের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ঠোঁটের ত্বক সুরক্ষিত রাখবে।

শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে

রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ধোয়ার পাশাপাশি ঠোঁটের মেকআপও ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর ঠোঁটে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার, লিপবাম বা হাইড্রেটিং লিপ প্যাক লাগিয়ে ঘুমান।

যাঁদের ঠোঁটে কালচে ভাব বা পিগমেন্টেশন বেশি, তাঁরা একটানা ৮ থেকে ১০ দিন অথবা সপ্তাহে নিয়মিত দুই থেকে তিন দিন এই ঘরোয়া যত্ন চালিয়ে যেতে পারেন। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।